বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক চাপ পেরিয়ে বিশ্বকাপে ইরানের সংগ্রামী ২-২ ড্র

চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জটিল ভ্রমণের কষ্ট সইতে ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ইরান। মেক্সিকো সীমান্ত থেকে বাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছে ম্যাচ খেলে আবার রাতেই ফিরতে হয়—এমন অমানবিক সময়সূচির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের এই দলটি দৃঢ় মনোসংযোগ দেখিয়ে ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তারা দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের রোমাঞ্চকর ড্র পেয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের প্রস্তুতি চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে ফিফার কাছে মেক্সিকোতে ম্যাচ সরানোর আবেদন খারিজ হলে দলটি টুর্নামেন্টে টিকে থাকারই সিদ্ধান্ত নেয়। এখন তারা মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অনুশীলন ঘাঁটি গেঁড়েছে এবং প্রতিটি ম্যাচের মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে। এসব বাধার কথা উল্লেখ করে অধিনায়ক মেহদি তারেমি লোকসানে বলেছিলেন, বাহিরে উৎসবমুখর আমেজ না থাকায় নিজেকে স্বাভাবিক পরিবেশে খেলতে পারছেন না।

ম্যাচে প্রথম বড় সুযোগটি পেলেন কিউইরা। মাত্র সপ্তম মিনিটে ক্রিস উডের পাস থেকে এলিজাহ জাস্ট চমৎকার এক ভলিতে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। গোল খেয়ে জেগে ওঠে ইরান; ৩২ মিনিটে রেজাইয়ানের এক শৈল্পিক চিপ শটে সমতা ফিরে এসে ম্যাচ আবার সমান হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে, ৫৪ মিনিটে ক্রিস উডের সহায়তায় হাজির হয় জাস্টের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল এবং কিউইরা আবারও এগিয়ে যায়। কিন্তু ইরানের লড়াকু মনোবল কার্যত ধাক্কা খায়নি—স্রেফ ১২ মিনিট পর রেজাইয়ানের লম্বা পাস থেকে নিখুঁত হেড করে মোহেবি ম্যাচ ২-২ করেন।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ইরানের চেয়ে ৬৫ ধাপ পিছিয়ে থাকা নিউজিল্যান্ড এই ম্যাচে জয়ের খুব কাছে গিয়েছিল; কিন্তু গতি ও অভিজ্ঞতার ঘাটতিতে পয়েন্ট ভাগাভাগিই হয়েছে তাদের। ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপে ফেরার এই কিউই দলটির জন্য মাত্র এক পয়েন্টই বড় অর্জন মনে হতে পারে।

ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে আন্তরিক আচরণ, জার্সি বদল এবং আলিঙ্গনের মুহূর্ত দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে। ডাগআউটে গম্ভীর মুখে বসে থাকা ইরানি কোচ আমির ঘালেনোয়ি এবং মাঠে হাজির হাজার হাজার প্রবাসী সমর্থকের উদ্দেশ্যে পতাকা নিয়ে খেলোয়াড়দের কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন—এসব মিলিয়ে ইরানের এই ড্র ফুটবল ম্যাচেরও বাইরে একটি বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক বয়ান হয়ে দাঁড়ায়।

পোস্টটি শেয়ার করুন