ফুটবল বিশ্বকাপ (যুক্তরাষ্ট্র—কানাডা—মেক্সিকো) শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসেও। ক্রোড়প্রীতি এই উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা দুই ফুটবল কিংবদন্তি—ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও পেলে—এর বিশাল গ্রাফিতি এঁকেছেন হলোর দেয়ালে, যা ক্যাম্পাসে এক নস্টালজিক ও উচ্ছ্বাসপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে।
শাহজালাল হলোর কমনরুমের দেয়ালে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি অঙ্কন করেছেন ভেটেরিনারি অনুষদের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক শান্ত। অন্যদিকে ব্রাজিলিয় ফুটবল আইকন পেলের প্রতিকৃতি এঁকেছেন পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ ফারাবি।
পেলের গ্রাফিতি সম্পর্কে ফারাবি বলেন, ‘আমার কাছে পেলে ফুটবলের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনবারের বিশ্বকাপ জয়ী তিনি—১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০—এদের কীর্তি অনন্য।’ তিনি জানান, প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার এই গ্রাফিতি করতে তিন দিন ও তিন রাত লেগেছে। ‘প্রথম দিন স্কেচে গেলো; পরের দুই দিন রঙ করা হয়েছে। এখানে প্রায় আঠারো ধরনের রং ব্যবহার করা হয়েছে। ক্লাস শেষে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিদিন কাজ করতাম,’ তিনি যোগ করেন।
ম্যারাডোনার গ্রাফিতি সম্পর্কে রেজওয়ানুল হক শান্ত বলেন, ‘প্রতি চার বছর পর পর বিশ্বকাপ এলে ক্যাম্পাসে উৎসবের মতো আবহাওয়া তৈরি হয়। সেই আনন্দকে আরও উজ্জ্বল করতে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’ শান্ত জানান, প্রায় ১১ ফুট উচ্চতার ম্যারাডোনার ব্যতিক্রমী এই গ্রাফিতি আঁকতে তার প্রায় দুই দিন সময় লেগেছে এবং इसमें জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও সহযোগিতা করেছেন। গ্রাফিতিটির যাবতীয় খরচ দিয়েছে হলের আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাব।
মেসি ও নেইমারের মতো চলমান তারকাদের রং-বৈচিত্র্যের ভিড়ে পেলে ও ম্যারাডোনার এসব দেয়ালচিত্র ক্যাম্পাসে পুরনো দিনের স্মৃতি টেনে এনেছে। শাহজালাল হলো ছাড়াও মাওলানা ভাসানী হল, সোহরাওয়ার্দী হল ও ঈশা খাঁ হলো বিভিন্ন রঙে বিশ্বকাপ উৎসব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
আঁকার পর থেকেই সেই দেয়ালচিত্রগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে—প্রতিদিন ছবি তুলতে এবং দেখার জন্য জনসমাগম হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই শিল্পী ও তাদের কাজ প্রশংসায় ভাসছে। ক্যাম্পাসে ফুটবল উৎসবকে যারা আর্টের মাধ্যমে তোলা করেছেন, তারা জানিয়েছেন—এটা শুধু দেয়াল নয়, এক ধরনের আবেগ ও স্মৃতির সংরক্ষণ।