ফেনীর ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজীতে পৃথক দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ জুন) ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজকুঞ্জরা গ্রামে যোবায়ের হোসেন পারভেজ নামে এক যুবকের গলাকাটা ও হাতকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সময় ফেনীর ফুলগাজীতে এক কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রী কাজল (৩৫) কে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
ছাগলনাইয়ার ঘোপাল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিজকুঞ্জরা গ্রামে পারভেজকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেলে পরিবারের অভিযোগে নিহতের বাবা আবু তাহের ছাগলনাইয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারভেজ ছিলেন ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মী; কিছু জনের বক্তব্য তিনি ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও ছিলেন।
আবু তাহের দাবি করেন, পারভেজের সঙ্গে প্রতিবেশী সাদেক মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ নামের ব্যক্তির মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধ শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় এক দোকানে মোবাইল ফোন নিয়েও কথাকাটাকাটি পর্যন্ত গড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, সেই ঘটনার জেরেই পারভেজকে হত্যা করা হতে পারে। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তারযোগ্য কয়েকজন পালিয়ে আছে।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের বলেন, নিহতের বাবা বাদী হয়ে অভিযোগ করেছেন। তদন্তকার্যে ইতোমধ্যে পুলিশ কাজ করছে; নিহত পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ২৫টি মামলা রয়েছে এবং তিনি সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দাবি-অভিযোগ যাচাই করতে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে ফুলগাজীতে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের শিকার কাজল তিন সন্তানের জননী ও কুয়েত প্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের ইসমাইল মাস্টার বাড়িতে দুর্বৃত্তেরা ঘরের ওপরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তখন বাড়িতে কেবল কাজল ও তার দুই বছরের ছোট শিশুটি ছিলেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, দুর্বৃত্তরা কাজলের হাত-পা বেঁধে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে ফুলগাজী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। হত্যাকাণ্ডের খবরে বাড়িতে এবং চারপাশে স্থানীয় লোকজন ভীড় জমান।
ফুলগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ এম. এম. মিজানুর রহমান বলেছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। হত্যার সঠিক কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। উভয় ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্তে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।