সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোস্টগার্ডের অভিযানে সুন্দরবনে ‘দুলাভাই বাহিনী’ প্রধানসহ দুই আটক, একজন নিহত

সুন্দরবনের গভীরে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’ প্রধান রবিউল ইসলামসহ দুই ডাকাতকে আটক করা হয়েছে; এক ডাকাতের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে কোস্ট গার্ড শনিবার (২৭ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, বনদস্যু নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ চালাচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় খুলনার কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের অসহায় এলাকায় দুলাভাই বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে।

এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গত ২৫ জুন বিকেল ৫টা থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা ও স্টেশন নলিয়ান যৌথভাবে টানা দুই দিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ডাকাতদের বহনকারী দুটি বোট শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা থামার সংকেত দিলে তা উপেক্ষা করে ডাকাতরা কোস্ট গার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়; দুইপক্ষের গোলাগুলিতে এক বোট আগুনে ঝলসে যায় এবং অপরটি ডুবে যায়।

কোস্ট গার্ড প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় তারা 216 রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ ব্যবহার করে। গোলাগুলির পর তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) ও ডাকাত শওকত সরদার (৫৫)কে উদ্ধার ও আটক করা হয়। তাদের কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক শওকতকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রবিউলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে পালিয়ে যাওয়া সদস্যদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশ যৌথ চিরুনি অভিযান শুরু করে। এর অংশ হিসেবে মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনের এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় অস্ত্রোপচাররত অবস্থায় বা–হাতে গুলিবিদ্ধ ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) নামে আরও এক ডাকাতকে আটক করা হয়; তাকে পরে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, আটক রবিউল ইসলাম ও নিহত শওকত সরদার দুজনেই খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা; আর ইসরাফিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার স্থানীয়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্টিজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি।

আটককৃতদের উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং নিহত ডাকাতের মরদেহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম ও ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড জানান, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন