সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাংকারে ফের হামলা

হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, প্রণালীতে থাকা ট্যাংকারটিকে অজ্ঞাত একটি নিক্ষিপ্ত বস্তু বা প্রজেক্টাইল আঘাত করেছে। আঘাতের ফলে জাহাজটির ব্রিজ বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে ক্রুদের সবাই নিরাপদে আছেন এবং আপাতত কোনো পরিবেশগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ইউকেএমটিও ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চালাচ্ছে।

এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল যখন গত কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে সামান্য অবসান ঘটে এবং দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি ভঙ্গের পর থেকে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) একটি মালবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’ ড্রোন হামলার শিকার হয় বলে খবর প্রকাশিত হয়। সেই ড্রোন আঘাতের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় এবং সেন্টকম জানিয়েছে তারা ওই ড্রোন হামলার ‘শক্তিশালী জবাব’ দিয়েছে।

এর পরবর্তী পাল্টা পদক্ষেপে ইরান শনিবার মার্কিন বাহিনীর সাথে যুক্ত লক্ষ্যগুলোতে হামলা চালায়। একই সময়ে বাহরাইনেও মার্কিন নৌবাহিনীর আঞ্চলিক সদর দফতরকে নিয়েই একটি ইরানি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব প্রতিক্রিয়ার জিইয়ে ওঠা উত্তেজনার মাঝেই হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারে আঘাতের ঘটনা ঘটল।

ইরান এখন ওই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় আরও সক্রিয় হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস অননুমোদিত জাহাজ লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছুঁড়ছে, ফলে অন্যান্য জাহাজগুলোকে প্রণালী পার হওয়ার আগে ইরানের অনুমতি নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সংযুক্ত ঘটনার পর নৌচলাচল সুরক্ষায় নিয়োজিত জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার তাদের নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা বাড়িয়েছে। এই ধরনের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহন ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে প্রণালীটি বিশ্ববাজারে তেলের এক গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায়। পরিস্থিতি পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় কর্তৃপক্ষরা তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন