সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পীরগঞ্জে জামায়াত এমপির বরাদ্দ প্রকল্পে সভাপতি হয়েছেন আত্মীয়-স্বজন

রংপুরের পীরগঞ্জে জামায়াতের সংসদ সদস্য (রংপুর-৬) মো. নুরুল আমিনের বরাদ্দকৃত বিভিন্ন প্রকল্পে তার নিকট আত্মীয় ও স্বজনদের সভাপতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা। টিআর, কাবিটার ও কাবিখার বরাদ্দে নিজস্ব স্বার্থে বরাদ্দবন্টন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোাগের কথা বলা হচ্ছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিন টেস্ট রিলিফ (টিআর) ৩০ লক্ষ টাকা, কাবিটার ২৫ লক্ষ টাকা এবং কাবিখার ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন। তিনি তার সংসদীয় এলাকা জুড়ে টিআরের নগদ অর্থের ১৪টি, কাবিটার ১১টি ও কাবিখার ৫টি—মোট ৩০টি প্রকল্পে বরাদ্দ ভাগ করে প্রকল্প দাখিল করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৯ নম্বর সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে এমপির বরাদ্দ করা এক জোড়া প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কাবিখা প্রকল্পে ওই গ্রামের ইয়াকুব আলীর বাড়ির সামনে ওয়াক্তিয়া নামাজ ঘর উন্নয়ন ও মাঠে মাটি ভরাটকরণের কাজ চলছে। ওই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে এমপির চাচাতো বোনের স্বামী ইয়াকুব আলীকে।

অপর প্রকল্পটি একই গ্রামের ইয়াকুব আলীর বাড়ি থেকে মুশফিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাসলিংকরণ, ইয়াকুবের পুকুর পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটকরণ। এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে ইয়াকুবের ছেলে সালমান শরিফ শাওনকে। অফিসিয়ারি কাগজে দেখা যায়, এই দুই প্রকল্পের সভাপতি পিতা-পুত্র—তারা দুজনই এমপির ভাগনে ও ভগ্নিপতির সম্পর্কেও রয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, অন্য বহু প্রকল্পেও এমপির ঘনিষ্ট আত্মীয় ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সভাপতি করা হয়েছে, যা নিয়ে गाँव-ইউনিয়ন স্তরে কথা বলার ও সমালোচনার ভিড় রয়েছে। তুলারামপুর গ্রামের মুকুল মিয়া প্রশ্ন করেন, ‘‘ওয়াক্তিয়া ঘরের মতো জনগণের কাজে স্বজন-সম্পর্কিকে দায়িত্ব দিলে বাস্তবায়ন কি সঠিকভাবে হবে?’’

আরেক স্থানীয় মঞ্জু মিয়া ফেরার্তে বলেন, ‘‘গ্রামে পুরনো জামে মসজিদ আছে, সেখানে নিয়মিত শতাধিক মানুষ নামাজ পড়ে। মসজিদ উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চাইলে ওদের কোনো বরাদ্দ না দিয়ে আত্মীয়-স্বজনকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে—এটাই কষ্টের।’’

প্রকল্পের সভাপতি ইয়াকুব আলী জানান, ‘‘প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ আছে বা কীভাবে বাজেট হয়েছে, সেটা আমি জানি না। অফিস থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে, তাই কাজ করছি।’’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ বলেন, ‘‘অভিযোগ হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় হলে তদন্ত করে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানও জানান, ‘‘কোনোভাবে কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়াকড়ি করা হবে।’’

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘‘এ বিষয়ে পরে কথা হবে,’’ এবং এক্ষুণি কলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির মধ্যে এই ঘটনায় কথিত স্বজনপ্রীতি ও বরাদ্দ বদলে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতিপথ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত হলে প্রকৃত অবস্থা পরিষ্কার হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী।

পোস্টটি শেয়ার করুন