মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে তিন দিনব্যাপী ‘আগামীর মঞ্চ: জিয়া হায়দার নাট্যমেলা ২০২৬’ শুরু

প্রয়াত নাট্যকার, শিক্ষক ও সংস্কৃতিব্যক্তিত্ব জিয়া হায়দারের স্মৃতি ও কর্মকে উৎসর্গ করে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী নাট্যমেলা—‘আগামীর মঞ্চ: জিয়া হায়দার নাট্যমেলা ২০২৬’। আজ সোমবার, ২৯ জুন বিকেল ৫টা থেকে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলার দরজা খুলে থাকবে নাট্যপ্রেমী দর্শকদের জন্য।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ এই মেলার মূল আয়োজক। আয়োজক কমিটি বলেছে, তরুণ নাট্যকর্মীদের মধ্যে সুপ্ত সৃজনশীলতা জাগানো, প্রাতিষ্ঠানিক ও গবেষণাভিত্তিক নাট্যচর্চা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন পথ তৈরি করাই মেলার প্রধান লক্ষ্য।

মঞ্চনাটকের পাশাপাশি মঞ্চজুড়ে থাকছে পুতুলনাটক, বিশেষ তথ্যচিত্র এবং নাটকের পোস্টার, সেট ও কস্টিউম প্রদর্শনীসহ নানা রূপের বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান। মেলার বিশেষ আকর্ষণ—প্রদর্শিত সব নাটকের সামগ্রিক নির্দেশনায় নিয়োজিত রয়েছেন চবি নাট্যকলা বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের একঝাঁক প্রতিভাবান শিক্ষার্থী, যারা নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে নাট্যরূপ সাজিয়েছেন।

আজ বিকেল ৫টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমিন, এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম। উদ্বোধনের পর সন্ধ্যা ৬টায় মঞ্চস্থ হবে জিয়া হায়দারের রচিত এবং ঋজু লক্ষ্মীর নব-নাট্যরূপে নির্মিত ‘উম্মাদ সাক্ষাৎকার’। রাত ৮টায় দেখা যাবে সাঈদ আহমদ রচিত নাটক ‘তৃষ্ণায়’।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন, ৩০ জুন সন্ধ্যা ৬টায় প্রযোজনা হবে জিয়া হায়দারের জনপ্রিয় নাটক ‘শুভ্র সুন্দর কল্যাণী আনন্দ’ এবং রাত ৮টায় মঞ্চে আসবে ইয়ারোস্লাভা পুলিনোভিচ রচিত, সনজিত কুমার দে’র নব-নাট্যরূপে সাজানো ‘আকাশ কেন ডাকে’। মেলার সমাপ্তি ১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় হবে আন্তন চেখভের বিশ্বখ্যাত নাটক ‘দ্য বিয়ার’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে; এ নির্বাচিত ধারাবাহিকতার পর রাত ৮টায় মঞ্চস্থ হবে নিকোলা এরডম্যান রচিত ‘দ্য সুইসাইড’, যার মধ্য দিয়ে পড়বে তিনদিনের এই প্রাণবন্ত নাট্যোৎসবের পর্দা।

নাট্যপ্রেমীদের উদ্দেশে আয়োজকরা জানান, মেলা দেখতে এসে তারা নতুন প্রতিভা ও ভিন্নধারার নাট্যচর্চার সঙ্গে পরিচিত হবেন। তিন দিনব্যাপী এই উৎসবটি চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক চর্চাকে একটি প্রাণবন্ত মঞ্চ দিচ্ছে এবং তরুণ নাট্যকার ও অভিনেতাদের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দিচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন