বিশ্ব চলচ্চিত্রে যোগ হলো নতুন এক সোনালি অধ্যায়—পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনীধর্মী ছবি ‘মাইকেল’ বক্স অফিসে সব রেকর্ডভাঙা সফলতা অর্জন করে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বায়োপিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। লায়ন্সগেটের এই বিশাল বাজেটের প্রজেক্টটি ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওপেনহাইমার’কে ছাড়িয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে।
আগে পর্যন্ত বায়োপিকের শীর্ষে ছিল নোলানের ২০২৩ সালের ‘ওপেনহাইমার’, যা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। কিন্তু মুক্তির মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ‘মাইকেল’ সেই কীর্তিকে টপকে বিএক্স অফিসে এখন পর্যন্ত ৯৭৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে—প্রায় ৯৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার—এবং দ্রুত ১ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবের দিকে এগিয়ে চলছে।
এর আগে চলতি মাসে ‘মাইকেল’ ছোটখাট মিউজিক্যাল বায়োপিকের একাপেক্ষা আরেক রেকর্ডও ভেঙে দেয়; ব্রিটিশ রক ব্যান্ড কুইনের কিংবদন্তি ফ্রেডি মারক্যুরির জীবন নিয়ে নির্মিত ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ (২০১৮) বিশ্বজুড়ে অর্জন করেছিল প্রায় ৯০৪ মিলিয়ন ডলার। তবু মাইকেলের প্রভাব সেই রেকর্ডও দীর্ঘস্থায়ী রাখতে পারেনি।
অ্যান্টোইন ফুকুয়া পরিচালিত ‘মাইকেল’-এ মাইকেল জ্যাকসনের ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের স্তম্ভিত করেছেন তার ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। জাফরের নাচ, মাইকেলের আইকনিক হাঁটা-চলন, কণ্ঠস্বরের অনুপ্রবেশ এবং অবিকল রূপান্তর সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
চলচ্চিত্রটি শুধু মঞ্চভিত্তিক ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্স বা গ্ল্যামার দেখায়নি—এটি সাহসের সঙ্গে মাইকেলের ব্যক্তিজীবনের অন্ধকার, বিতর্ক ও গভীর নিঃসঙ্গতার কথাও আবিষ্কার করে। রবিবারের আলো থেকে ব্যক্তিগত সংগ্রাম–মানসিক ও সামাজিক বাঁধা-বিপত্তি পেরিয়ে কিভাবে তিনি বিশ্বকে দীর্ঘদিন ধরে মাতিয়ে রেখেছিলেন, তা সিনেমায় নান্দনিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই মিলিত কারণেই ‘মাইকেল’ বিশ্বজুড়ে দর্শকপ্রিয়তা ও সমালোচনামূলক শ্রদ্ধা একযোগে পেয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, এই তরতরিয়ে ওঠা সাফল্য ‘মাইকেল’কে কখন ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে পৌঁছে দেবে—এমনকি ভবিষ্যতে এই বায়োপিকের আরও কোন রেকর্ড ভাঙার সম্ভবনা রয়েছে কি না।