দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ডের মানসম্মত পণ্য আকর্ষণীয় ছাড়ে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে রাজধানীতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে ‘ঢাকা ডিসকাউন্ট ফেস্ট ২০২৬’। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় ডিসকাউন্ট ইভেন্ট হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে যেখানে ২৫০টিরও বেশি খ্যাতনামা ব্র্যান্ড ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। তিন দিনব্যাপী এই মেলায় ক্রেতারা বিভিন্ন পণ্যে সর্বোচ্চ ৭৫% পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন।
বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইভেন্টকম কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানান। বলা হয়, মেলা আগামী ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভুটান, শ্রীলঙ্কাসহ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য ব্র্যান্ড এখানে সরাসরি অংশ গ্রহণ করবে। আয়োজনে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে ভ্যানটোরা কমিউনিকেশনস লিমিটেড।
ঢাকা ডিসকাউন্ট ফেস্ট ২০২৬-এর প্রকল্প পরিচালক মো. তাসলিম আমিন শোভন বলেন, “ঢাকা ডিসকাউন্ট ফেস্ট দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ড এবং ক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি অর্থবহ সংযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম। এ ধরনের আয়োজন দেশের খুচরা বাজারকে আরও গতিশীল করবে এবং ব্র্যান্ড ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করবে।” তিনি আরও বলেন, মেলায় উপস্থাপিত পণ্যের বৈচিত্র্য এবং ব্যাপক ছাড় গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় কেনাবেচার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আয়োজকরা জানানো হয়েছে, বড় বড় ব্র্যান্ডের পণ্য এক ছাদের নিচে সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যাবে এবং একই সঙ্গে নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুবর্ণ সুযোগ পাবেন। নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে মেলায় বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে চিফ ফ্যাসিলিটেটর জিন্নাত আরা বারী জানিয়েছেন।
ইভেন্টকমের হেড অব অপারেশন শফিকুল ইসলাম বলেন, “এই আয়োজন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন গ্রাহক ও বাজার তৈরির সুযোগ প্রদান করবে। ঢাকার আয়োজন সফল হলে আমরা পরবর্তী বছরগুলোতে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় ডিসকাউন্ট ফেস্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রেখেছি এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারণের কথা ভাবছি।”
মেলায় স্টলবুকিংয়ের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে—আগাম বুকিং বা ‘আর্লি বার্ড’ প্যাকেজে ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্টলভাড়া প্রদানে ৫০% ফ্ল্যাট ছাড় দেওয়া হবে। আয়োজকরা ক্রেতা ও অংশগ্রহণকারী উভয়ের জন্য মেলার সময় আকর্ষণীয় ছাড়, লাইভ ডেমো, ব্র্যান্ড প্যাভিলিয়ন ও নেটওয়ার্কিং সেশনসহ নানা কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখার কথাও জানিয়েছেন।
তিন দিনের এই ডিসকাউন্ট ফেস্টে ভোগ-বাণিজ্য, ফ্যাশন, ইলেকট্রনিক্স, হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস, লাইফস্টাইল এবং ফুড কর্ণারসহ বহুমুখি শপিং ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম থাকতেই পারে, যা সাধারণ ক্রেতা থেকে ব্যবসায়ী পর্যন্ত সবার জন্য লাভজনক হবে—এটাই আয়োজকদের লক্ষ্য।