রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ টিকিটবাজারে হঠাৎ ধস: যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়ামের টিকিটে সবচেয়ে বড় পতন

ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ সিক্সটিনের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলো মাঠে গড়ানোর আগেই টিকিটের আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। দর্শক ও বিশ্লেষকরা বহু প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম হঠাৎই ব্যাপকভাবে নেমে আসায় ফুটবল মার্কেটে আতঙ্ক আর আশ্চর্যের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো পতন হয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচটির টিকিটে। টিকিট পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান TicketData.com–এর তথ্যে, সিয়াটলে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচের সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য গত ১ জুনে প্রায় ৪ হাজার মার্কিন ডলারে (প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা) পৌঁছেছিল। কিন্তু ব্ল্যাক মার্কেট ও ওপেন মার্কেটে চাহিদা কমার কারণে কয়েক দিনের মধ্যে তা নাটকিয়ভাবে নেমে এসে দাঁড়ায় মাত্র ১,৫৪৯ ডলারে।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে আসার পর টিকিটবাজারে সামান্য স্বনাগরিক সাড়া ফিরে আসে। গত শুক্রবার ওই ম্যাচের সর্বনিম্ন টিকিটের অফিশিয়াল মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে ২,৮৩৬ ডলারে ঠিক করা হয়। কিন্তু বাজারে সেই ঊর্ধ্বগতি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। শনিবার বিকেলে মূল্য আবার হুড়মুড় করে নেমে এসে নেমেছিল ১,৪২৩ ডলারে — যা আগের তিন দিনের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশের মতো পতন। শনিবার সন্ধ্যার দিকে শেষ মুহূর্তে আগত ক্রেতাদের চাপ হলে দাম কিছুটা বেড়ে ১,৬৩৫ ডলারে ওঠে।

তবুও টিকিটের চড়া তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচ এখনো দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট, যেখানে সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য এখন প্রায় ৩,৫৭৪ ডলার।

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম টিকিটের এতো বড় পতন অপ্রত্যাশিত ছিল। কারণ বেলজিয়ামের মূল বেস ক্যাম্প সিয়াটলের কাছে, এবং সিয়াটলে এটি বেলজিয়ামের তৃতীয় ম্যাচ— এ কারণে গ্যালারি ভর্তি হওয়ার কথা সবাই ধারণা করে ছিল। তবুও দর্শক আগ্রহ প্রত্যাশাকৃত মাত্রা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রিমিয়াম দাম টিকিটে ধরে রাখা যায়নি।

অন্যান্য শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোর টিকিটও আগের গ্রুপ পর্বের মতো আকাশচুম্বী মূল্যে পড়ছে না। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য এখন ১,৫৯৯ ডলার। ব্রাজিল বনাম নরওয়ের টিকিট ১,৫৩৭ ডলার এবং পর্তুগাল বনাম স্পেন ম্যাচের টিকিটের শুরুটা মাত্র ১,৩৬৭ ডলার থেকে। অর্থাৎ নকআউট পর্বে সত্ত্বেও দর্শক চাহিদা গ্রুপ পর্বের তুলনায় অতিরিক্ত প্রিমিয়াম গঠন করছে না, ফলে ফিফা ও বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম রাখতে পারছে না।

এছাড়া স্বাগতিক কানাডা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর তাদের ম্যাচের টিকিটের উপরের চাহিদাও বিভ্রান্ত হয়েছে; কানাডার কাছে ৩-০ গোলে হারের পরে ওই ম্যাচের সর্বনিম্ন মূল্য শেষ ৭২ ঘণ্টায় প্রায় ১৪ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

মোটকথা, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে টিকিটবাজারে দেখা এই অপ্রত্যাশিত ধস দর্শক প্রবণতা, স্থানীয় ম্যাচসূচি ও বাজারের সরবরাহ-চাহিদার ক্ষরণ মিলিয়ে হয়ে উঠেছে—এবং এটি ফিফা ও টিকিট বিক্রেতাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ এনে দিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন