গুমোট গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে জনজীবনে বিরক্তিকর বায়ুমণ্ডল ছাপ ফেলে থাকার পর অবশেষে স্বস্তি বয়ে আনছে আবহাওয়া। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আজ রোববার (৫ জুলাই) থেকে পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে দেশের প্রায় সব বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হবে এবং কিছু কিছু এলাকায় কখনও কখনও অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক বলেছেন, বৃষ্টির ফলে আজ থেকেই সারা দেশের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে, ফলে চলমান মৃদু তাপপ্রবাহ অনেকাংশেই প্রশমিত হবে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার বিশ্লেষণে অধিদপ্তর জানিয়েছে, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অনেকে জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিজলি ঝলকানির সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় জেলা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু জায়গায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বর্তমানে রংপুর বিভাগসহ রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, সিলেট এবং উপকূলীয় জেলাগুলোতে যে মৃদু তাপপ্রবাহ চলছিল, বৃষ্টিপাতের জন্য তা ধীরে ধীরে কমে যাবে। একই সঙ্গে দেশের দিনের তাপমাত্রা ১–৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রাও কিছুটা নেমে আসবে।
সপ্তাহের প্রথম দিনগুলোয় এই বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকবে। সোমবারও দেশের অধিকাংশ স্থানে মাঝারি থেকে কখনও কখনও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে দেশের সব বিভাগের অধিকাংশ অংশে বিরাজ করতে পারে; যার ফলে দিনের তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে। বুধবার ও বৃহস্পতিবারও অনুরূপ আবহাওয়া থাকতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া বিভাগের এ পূর্বাভাস অনুযায়ী, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে—তাপপ্রবাহ কমবে, পরিবেশ শীতল ও আরামদায়ক হবে। তবে অতি ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের এবং নিচু-ভূমিতে বন্যার সম্ভাবনা থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে প্রাসঙ্গিক সতর্কতা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।