মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে অনুরোধ: তুরস্ককে অত্যাধুনিক অস্ত্র দেবেন না

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন যে তুরস্ককে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র সরবরাহ করা উচিত হবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে নেতানিয়াহু তার গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেন—বিশেষ করে তুরস্ককে পুনরায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে অন্তর্ভুক্ত করা বা যুদ্ধবিমানের শক্তিশালী ইঞ্জিন সরবরাহের বিষয়ে।

নেতানিয়াহুর এই সতর্কবার্তার পেছনে রয়েছে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের তীব্র ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য এবং তুরস্কের মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো আদর্শিক শক্তিগুলোর প্রতি সমর্থন। তিনি মনে করেন, এমন একটি সরকারের হাতে যদি অত্যাধুনিক মার্কিন সমরাস্ত্র চলে যায় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে এবং তা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদে হুমকি তৈরি করবে। নেতানিয়াহু বিশেষ করে এরদোয়ানের সেই মন্তব্যসমূহকে উল্লেখ করেছেন, যেখানে জায়নবাদকে ‘গণহত্যার মতাদর্শ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের তুরস্ক সফর এবং এরদোয়ানের সঙ্গে তার বৈঠক সম্ভাব্য—এই বৈঠকে তুরস্ককে পুনরায় এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আলোচনার টেবিলে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৯ সালে তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ফলে ওয়াশিংটন আঙ্কারাকে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে তুরস্ককে পুনরায় এফ-৩৫ বিক্রি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে—এই প্রেক্ষাপটেই নেতানিয়াহুর অনুরোধের গুরুত্ব বাড়ে।

গাজা যুদ্ধে উত্তেজনা ও ইরানের প্রসঙ্গ নিয়ে গত কয়েক বছরে আঙ্কারা ও তেল আবিবের সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইতিমধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানিয়েছেন। এদিকে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটিই কূটনৈতিকভাবে জটিল পরিস্থিতি—কারণ মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্ক ও ইসরায়েল উভয়ই ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। ন্যাটো সম্মেলনের ওই সম্ভাব্য বৈঠক এই অঞ্চলের সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন