মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধ শিল্প ও সেবা সচল করার ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিমে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

দীর্ঘদিন অচল বা আংশিক ভাবে কাজ করা শিল্প ও সেবা খাতগুলোকে পুনরায় উৎপাদনমুখীভাবে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-৩ (বিআরপিডি-৩) মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত সার্কুলার প্রকাশ করে এবং অংশগ্রহণমূলক চুক্তি সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ খসড়া, অনুমোদনপত্র, ডেবিট অথরিটি, লেটার অব কন্টিনিউটি ও প্রমিসরি নোটের নমুনা সংযুক্ত রাখেন।

সার্কুলারের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০ হাজার কোটি টাকার “বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়তা বিষয়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম” থেকে তহবিল নিতে চাওয়া কোনো তফসিলি ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তিতে সই করা বাধ্যতামূলক। তহবিল উত্তলনকারী ব্যাংককে ঋণ অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও ইউটিলিটি সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যয়নপত্রও যুক্ত থাকতে হবে।

স্কিমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পর্যাপ্ত চলতি মূলধনের অভাবে বন্ধ বা সীমিত উৎপাদনকারী বড় শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হবে রপ্তানিমুখী শিল্প ও সেবা খাতকে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান রক্ষা ও রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব হয়। তবে ঋণখেলাপি কোনো গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানকে এই স্কিমের আওতায় আনা যাবে না; অর্থ পাচার, জালিয়াতি বা তহবিল অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানও বাদ থাকবে এবং এ যাচাই-প্রক্রিয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর থাকবে।

তহবিল কেবল নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহার করা যাবে — শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা (সর্বোচ্চ চার মাস), গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল, কাঁচামাল ক্রয় এবং রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন। বেতন-ভাতা ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে; নগদ প্রদান নিষিদ্ধ। চুক্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই অর্থ পুরোনো ঋণ সমন্বয় বা পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে না; এটি শুধুমাত্র কার্যকরী মূলধনের চাহিদা মেটাতে পারবে। প্রয়োজনে ব্যাংকরা তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধি বা বিশেষজ্ঞও নিয়োগ করতে পারবে।

একজন ঋণগ্রহীতা বা করপোরেট গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সুবিধা নিতে পারবে। তহবিলের মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর, তবে লেনদেন সন্তোষজনক এবং তহবিলের প্রাপ্যতা থাকলে নবায়নের সুযোগ থাকবে। সুদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে — অংশগ্রহণকারী ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদ বা মুনাফা নিতে পারবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সেই ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ হারে সুদ আদায় করবে।

ব্যাংকগুলোকে তাদের পর্ষদ সভায় ঋণ অনুমোদন হওয়ার সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি-৩ বিভাগে আবেদন করতে হবে। ঋণ বিতরণ ও আদায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে কড়াকড়ি নজরদারি থাকবে; ব্যাংকগুলোকে প্রতি প্রান্তিক শেষে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বিশদ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকেও তাদের নিজস্ব বিনিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ করে স্কিমে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যদি এই উদ্যোগ সুচারুভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং তহবিল সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে দেশের শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান রক্ষায় তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন