বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি টাকায় বিদেশ ভ্রমণ, গাড়ি কেনা ও নির্মাণে কঠোর কড়াকড়ি

সরকারি খরচে কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এর ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন গাড়ি কেনা, বিদেশী প্রশিক্ষণ-সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ এবং ভবন নির্মাণের মতো কিছু খাতে ব্যয় বন্ধ বা সীমিত করা হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য প্রদত্ত সুদমুক্ত ঋণ ও ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ ব্যয়ও তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো সীমিত পরিষদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এক পরিপত্র জারি করে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এই নির্দেশনা সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি করপোরেশন ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিভিন্ন সংস্থার জন্য প্রযোজ্য হবে।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই কৃচ্ছ্রসাধনের বিষয়টি কার্যকর করতে পারলেও রাজস্ব পরিচালন বাজেটের মধ্যে ব্যয় কমানো মোটেই সহজ নয়, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মসূচির গতিও ধীর। ফলে নতুন বাজেটের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এখনই ব্যয় কমানো কঠিন, তবে কৃচ্ছ্রসাধনের এই নীতি কার্যকর থাকবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের ব্যক্তিগত বা সরকারি গাড়ি, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো যানবাহনের প্রতিস্থাপন ও নতুন সরকারি যানবাহন সংগ্রহের জন্য অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকরি করতে হবে। এই ক্ষেত্রে, অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া অন্য সব যানবাহন সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক করতে হবে।

এছাড়াও ভবন নির্মাণ ও ভূমি অধিগ্রহণের বরাদ্দেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। চলমান নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে যদি অন্তত ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়, তাহলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে ব্যয় চালিয়ে যেতে পারবে। ভূমি অধিগ্রহণ ও সরকারি কর্মচারীদের জন্য গাড়ি কেনা বন্ধ থাকবে, একইসঙ্গে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় নতুন মোটরযান, জলযান ও আকাশযান ক্রয়ও আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।

উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ এবং বিশেষ প্রয়োজনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ প্রয়োজনীয় বিধি ও অনুমোদন নিয়ে চলতে থাকবে। বিদেশ ভ্রমণে ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে কোনও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার বা সমাবেশে অংশ নেওয়া এখন প্রায় বন্ধ, তবে আন্তর্জাতিক বৃত্তি বা ফেলোশিপের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। বিদেশি সংস্থা বা সরকার দ্বারা আয়োজিত প্রশিক্ষণেও যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যদি তা যুক্তিসঙ্গত ও প্রয়োজনীয় হয়।

এছাড়াও, পণ্য জাহাজীকরণের জন্য আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা ও দরকারি নিরীক্ষার ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র জটিল বা বাধ্যতামূলক ক্ষেত্রে বিদেশ ভ্রমণ অনুমোদন দেওয়া হবে, এবং সেই ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংস্থার মাধ্যমে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

পরিশেষে, পরিপত্রে বলা হয়েছে, বাজেটের সকল ক্ষেত্রে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধে কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন