শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী ঢামেকের ৮০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল সোয়া দশটার দিকে তিনি কলেজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। এই সফরকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।

প্রথমে তিনি কলেজ ক্যাম্পাসে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের তৈরি স্টল পরিদর্শন করেন। এই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিনী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান, পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মহরত মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’ এর আওতায় দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন।

শনিবার সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও আশপাশের এলাকায় ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর স্বাগত জানাতে উপস্থিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। ভিড়ের কারণে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের গতি কিছুটা শ্লথ হলে তিনি হাত নেড়ে উপস্থিত সকলের প্রতি শুভেচ্ছা জানান। এতে করে যোগাযোগের সমস্যা কমে যায় এবং যানজট থেকে মুক্তি পায়, যা সাধারণ পথচারী ও রোগীদের স্বজনদের জন্য স্বস্তি গোটা পরিবেশে প্রভাব ফেলে।

সুবিধাভোগীদের মতে, এই সফর একটি ঐতিহাসিক মিলনমেলা হিসেবে বিবেচিত। তারা আশা করেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি ভবিষ্যতে হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সমস্যার দ্রুত সমাধানে সহায়ক হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা মেডিকেল কলেজ আমাদের দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধের সময়, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বলuilder। তিনি আরও যোগ করেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই পদচারণা অত্যন্ত আবেগময়।

১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ৮ দশক ধরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে নতুন এক দিক-নির্দেশনা দেবে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আরও আধুনিক, উন্নত এবং কার্যকরী হাসপাতাল ও শিক্ষাগত সুবিধার পথ সূচিত করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন