যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফিফা নানা আয়সংক্রান্ত নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে—এবং সেই সিদ্ধান্তই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। টিকিট, হোটেল ও পরিবহন নিয়ে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগের মধ্যে এবার মেগা ফাইনালের মাঠের ঘাসের টুকরো বিক্রি করে আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা হয়েছে।
ফাইনাল ম্যাচ আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এবং ওই ম্যাচের মাটি থেকে নেওয়া ঘাসের প্রতিটি টুকরো বিক্রি করা হবে। প্রতিটি টুকরোর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫০ মার্কিন ডলার—যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৫ হাজার টাকার বেশি বলা হচ্ছে। ফিফার অফিসিয়াল স্টোর বলেছে, মাঠের asli ঘাসের টুকরোগুলো একটি প্রিমিয়াম অ্যাক্রিলিক কাঠামোর ভেতর রাখার পাশাপাশি ইউএসবি কিপসেক সহ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে ক্রেতাদের দেওয়া হবে।
তবে ঘাসের প্রতিটি টুকরোর আয়তন হিসেবে ১৭.৫ × ১৭.৫ × ১৭.৫ উল্লেখ করা হলেও সেটি ইঞ্চি, সেন্টিমিটার না মিলিমিটার—কোনটি, তা স্পষ্ট করা হয়নি। এই বিষয়ে জানতে পাঠানো ইমেইলের কোনো জবাবও এখনো পাওয়া যায়নি।
ফিচারটি শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ঠিকানায় পাঠানো হবে এবং ক্রেতারা তা ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই হাতে পাবেন।
এই অভিনব স্মারক বিক্রির পাশাপাশি ফিফা টিকিট মূল্য নির্ধারণকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে আছে। বিভিন্ন সার্ভিস খাতে অতিরিক্ত ফি আর বিশ্বকাপ দেখার খরচ নিয়ে দর্শকদের অভিযোগ তীব্র—ফাইনালের সাধারণ টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ৩২,৯৭০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছিয়েছে এবং খাবার-পানীয়সহ হসপিটালিটি প্যাকেজের দাম সাড়ে ৩২ হাজার থেকে সাড়ে ৩৪ হাজার ডলারের মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে বলে খবর।
মেটলাইফ স্টেডিয়াম সাধারণত এনএফএল বা আমেরিকান ফুটবলের জন্য কৃত্রিম ঘাস ব্যবহার করে থাকে। বিশ্বকাপের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা এই পিচ নিয়েও ইতিমধ্যেই খেলোয়াড় ও কোচেরা মাঠের গুণগত মান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। একই মাঠে গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালের পরও মেটলাইফ স্টেডিয়ামের পিচের অংশ নিলামে তোলা হয়েছিল—তাই ঘাস বিক্রি করা ঘটনা ফুটবল মহলেই এবার নতুন করে আলোচনা তুলেছে।