রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উইম্বলডনের নতুন রানী লিন্ডা নসকোভা

শনিবার সেন্টার কোর্টে এক নাটকীয় ফাইনালে স্বদেশি ক্যারোলিনা মুচোভাকে হারিয়ে উইম্বলডনের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছেন চেক রিপাবলিকের লিন্ডা নসকোভা। ২ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের তীব্র লড়াই শেষে ৬-২, ৫-৭, ৬-৩ ব্যবধানে জিতে নসকোভা নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফির স্বাদ নিলেন।

এই জয়ের মাধ্যমে নসকোভা গত চার বছরের মধ্যে তৃতীয় চেক নারী হিসেবে উইম্বলডনের সম্মানিত ‘ভেনাস রোজওয়াটার ডিশ’ নিজের করে নিলেন; এর আগে ২০২৩ সালে মার্কেতা ভনদ্রুসোভা এবং ২০২৪ সালে বারবোরা ক্রেচিকোভা খেলাটি জিতেছিলেন।

ফাইনালে নসকোভার পথ মোটেই সোজা ছিল না। প্রথম সেটটি সহজভাবে ৬-২ জিতে নিলে দ্বিতীয় সেটেও তিনি জয়ের মুখে ছিলেন, কিন্তু মুচোভার সার্ভিসে একে একে চারটি ম্যাচপয়েন্ট হাতছাড়া করেন। নিজের সার্ভে পঞ্চম ম্যাচপয়েন্টটি ডাবল ফাল্ট ও ভুলের কারণে নষ্ট হলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢেকে কাঁদতে দেখা যায় তাকে। দ্বিতীয় সেটটি মুচোভা ৭-৫ এ জিতে ফাইনালে সমতা এনে দেন এবং নসকোভা কোর্ট ছেড়ে ড্রেসিংরুমে যান।

আরাম করে ফিরে এসে তৃতীয় সেট শুরুতেই প্রতিপক্ষের সার্ভ ব্রেক করে নিয়েছিলেন নসকোভা। এরপর ধারাবাহিকভাবে নিখুঁত টেনিস খেলায় দৌরত দেখিয়ে ৬-৩ সেট জিতে শিরোপা নিশ্চিত করেন তিনি। কোর্টে ফিরে যেয়ার পর তার খেলার মান পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়—ধৈর্য, কনসেন্ট্রেশন আর সাহস যেন একসাথে কাজ করেছে।

এই গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের মধ্য দিয়ে ২১ বছর বয়সী নসকোভা গত ১৫ বছরের মধ্যে উইম্বলডন জেতা সর্বকনিষ্ঠ নারী খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখালেন। চোখে পড়ে কাকতাল্য: ২০১১ সালে পেত্রা কভিতোভাও ঠিক ২১ বছর বয়সে উইম্বলডন জিতেছিলেন, আর কভিতোভাই ছিলেন নসকোভাকে অনুপ্রাণিত করার একজন আদর্শ। এদিন রয়্যাল বক্সে বসে কভিতোভা পুরো ম্যাচটি উপভোগ করেছেন।

টুর্নামেন্টে নসকোভার এক অন্যরকম কীর্তিও ছিল—তৃতীয় রাউন্ডে সোরানা সিরস্তিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচপয়েন্ট বাঁচিয়ে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট জেতা তার জন্য বিরল ইতিহাস গড়ে। উইম্বলডনের ইতিহাসে ভেনাস উইলিয়ামস (২০০৫) ও সেরেনা উইলিয়ামস (২০০৯) এর পরে এই কৃতিত্ব সফলভাবে করার মাত্র তৃতীয় নারী হিসেবে নাম লেখালেন নসকোভা।

নসকোভার এই অনন্য সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে এক আবেগঘন স্মৃতি। ২০২৪ সালের উইম্বলডনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন মায়ের ক্যানসার-বিধ্বস্ত মৃত্যু ঠিক পরপরই, যা ছিল জীবনের এক গভীর ক্ষত। সেই কঠিন সময় পার করে দুই বছর পর আবার সেই চেনা ঘাসের কোর্টে ফিরে এসে আজকের সাফল্য অর্জন করা তার জন্য তীব্র আনন্দ ও নিয়ত অনুপ্রেরণার মিশেল।

আজকের জয়ের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু হলো নসকোভার টেনিস জীবনে—একেকটা ম্যাচই এখন থেকে হবে তার জন্য স্মরণীয়, আর এই উইম্বলডন শিরোপা থাকবে সেই স্মৃতিগুলোর শীর্ষে।

পোস্টটি শেয়ার করুন