ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার নীরবে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় নিয়েছেন—এ কথা আনুষ্ঠানিকভাবে বলার বদলে প্রকাশ্যে এনেছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। ‘দ্য স্কুপ এক্সটেন্ডেড’ অনুষ্ঠানে হোল্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কোচ এই তথ্য জানিয়েছেন। যদিও হোল্ডার নিজে বিশেষ কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি, তথ্যমতে ৫০ ওভারের ক্রিকেট থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।
ছয় ফুট সাত ইঞ্চি লম্বা এই অলরাউন্ডার ওয়ানডে থেকে সরে গেলেও টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যেতে চান—এ点ই কোচ স্যামিও নিশ্চিত করেছেন। স্যামি বলেন, যেহেতু হোল্ডার নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নিচ্ছেন, তাই তাকে কখন এবং কীভাবে জাতীয় দলে ব্যবহার করা হবে তা নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন হবে। তবে হোল্ডার ব্যক্তিগতভাবে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
হোল্ডারের শেষ ওয়ানডে ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালের জুলাই মাসে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। সেই হারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০২৩ সালের মূল বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে যায় এবং এরপর থেকে তিনি আর ওয়ানডে মাঠে নামেননি। এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর থেকে লাল বলের ক্রিকেটেও তাকে চোখে পড়তে দেখা যায়নি; ওই সময়ে তিনি প্রধানত বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারে হোল্ডার খেলেছেন ১৩৮টি ম্যাচ, জড়ো করেছেন ১৫৯টি উইকেট এবং ইনিংসে দুইবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে তার নামে। ব্যাট হাতে তিনি ১২টি অর্ধশতকের মাধ্যমে ২২৩৭ রান করেছেন। খেলোয়াড় হিসেবে সফলতার পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবেও দীর্ঘ সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দিয়েছেন—তার নেতৃত্বে দল খেলেছে মোট ৮৬টি ওয়ানডে, যার মধ্যে ২৪টি জয়, ৫৪টি হার, ২টি টাই এবং ৬টি পরিত্যক্ত ম্যাচ ছিল।
হোল্ডারের এই চুপিচুপি সিদ্ধান্তে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে মিলেমিশে আছে বিস্ময় এবং শ্রদ্ধা—বহু বছরের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ক্যারিবীয় ক্রিকেটে বিশেষ ছাপ রেখে গেছেন। জাতীয় দলের কোচ এবং ফ্যানরা এখন দেখবেন তিনি টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে কীভাবে ফিরেন এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সঙ্গে জাতীয় দলে তার ভূমিকা কেমন হবে।