মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিবচরে হাজারো মানুষের ঢল, প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে শুভেচ্ছা

সরকার গঠনের পর প্রথম বরিশাল সফরে অংশ নেবার জন্য ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচর অংশ উৎসবমুখর ছিল। আষাঢ়ের টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোর থেকেই মহাসড়কের দুই পাশে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং নানা পেশার সাধারণ মানুষ জড়ো হন; তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর একনজর দেখা এবং তাকে স্বাগত জানানো।

সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৬টার পর প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গুলশানের বাসভবন থেকে পদ্মা সেতু পার হয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেয়। শিবচরের কাঁঠালবাড়ি সীমানা থেকে পাচ্চর, বন্দরখোলা, সন্ন্যাসীরচর, দত্তপাড়া ও সূর্যনগর এলাকা অতিক্রম করার সময় মহাসড়কের দুপাশে অপেক্ষমাণ হাজারো মানুষ ফুল ছিটিয়ে, স্লোগান দিয়ে এবং বাদ্যযন্ত্রের শব্দে তাকে স্বাগত জানায়।

বৃষ্টি صبح থেকে কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি, কখনও অঝোর ধারায় পড়লেও জনস্রোতের উৎসাহ কমেনি। অনেকেই হাতে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন; কেউ কৃষক সাজে ধানের শীষ ধরে, কেউ জেলের লোকের পোশাকে বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরছিলেন। স্থানীরা বলে, ভালোবাসা ও আকাঙ্ক্ষার জোরেই ভিড় spontaneous ভাবে গড়ে ওঠে।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর শিবচরের পাচ্চর এলাকায় পৌঁছালে মুহূর্তেই পুরো এলাকা স্লোগানে মুখরিত হয়। উপস্থিত জনতার অভিবাদন দেখতে গাড়ির ভিতর থেকেই তিনি হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান, আর তার প্রতিক্রিয়ায় নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস আরও বাড়ে।

শিবচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাওন চৌধুরী বলেন, দলের কোনও নির্দেশনা ছিল না; প্রিয় নেতাকে একনজরে দেখতে এবং স্বাগত জানাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এখানে এসেছি। একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু জাফর চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতা ও দেশের প্রধানমন্ত্রী এই পথে বরিশাল যাচ্ছেন, তাই আমরা তাকে বিদায় ও স্বাগত জানাতে এসেছি। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খানও উল্লেখ করেন, সকাল থেকেই দলের নেতা-কর্মীরা মহাসড়কের পাশে অবস্থান নিয়েছেন এবং এটি সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল।

সফরকালে শিবচর অংশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে টহল ও সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করেন, যাতে সফর নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

সামগ্রিকভাবে, বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করে শিবচরে মানুষের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো — এক ধরণের জনগণগত আন্তরিকতা যা অনুষ্ঠানের পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তুলেছিল।

পোস্টটি শেয়ার করুন