মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিগুণ শক্তিতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ: ঢাকায় দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

ঢাকা শহরের বিপুল পরিমাণ বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার লক্ষ্যে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে দৈনিক হাজার হাজার টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হবে এবং পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এছাড়া, এই প্রকল্পগুলোর আওতায় মিথেন গ্যাস, সার, পশুখাদ্য ও পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস তৈরি করা হবে। গত রোববার প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে এই প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে সাড়ে নয়টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, এই বৈঠকে ঢাকার আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি কেন্দ্র নির্মাণে চীনের সিএমইসি গ্রুপ বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়। এই প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করা হবে এবং এর মাধ্যমে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে এই কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে পারবে। এটি চালু হলে আগামী ২৫ বছর ধরে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি, ঢাকার মাতুয়াইল এলাকার একটি বড় প্রকল্পও বাস্তবায়িত হবে, যেখানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ কোম্পানি বিনিয়োগ করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বর্জ্য থেকে মিথেন গ্যাস এবং বিদ্যুৎ উত্পাদন করা হবে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছরে প্রায় ১৫,০০০ টন মিথেন গ্যাস উৎপাদিত হবে, যা ব্যবহার করে বছরে ৮১,০০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে, অর্থাৎ দৈনিক হিসেবে প্রায় ২২১ মেগাওয়াট-ঘণ্টা। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, এই প্রকল্পে সৌরবিদ্যুৎ, সার, পশুখাদ্য ও পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতিদিন এই প্রকল্পে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টن বর্জ্য ব্যবহার করা হবে। সরকার মনে করছে, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। বর্জ্য থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর গ্যাসের নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানো এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নে অবদান রাখতে এ সমস্ত প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈঠকে এ বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার নির্দেশনা দেওয়া হয় যাতে স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করে। এ ছাড়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মীর শাহে আলম, মো. শফিকুল ইসলাম খান, মো. আবদুস সালাম, এ বি এম আবদুস সাত্তার, আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

পোস্টটি শেয়ার করুন