ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে গত রাতে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। প্রাদেশিক নিরাপত্তা ও আইনপ্রয়োগ বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আইএসএনএকে এসব হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন।
হায়াতি বলছেন, খুজেস্তানজুড়ে মোট আটটি স্থানে হামলা হয়েছে। হামলা চালানোর সময় হিসেবে স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩৫ থেকে ২টা ২০ মিনিটের মধ্যে দফায় দফায় আক্রমণ পরিচালিত হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি স্থানের ক্ষয়ক্ষতি এখনো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
আহভাজ বিমানবন্দরে সরাসরি কোনো হামলার খবর তিনি নাকচ করেছেন; তবে শহরের কাছে বিমানবন্দরের উপকণ্ঠে দু’টি আঘাত লাগার কথা স্বীকার করেছেন। এর আগে হায়াতি জানান, মাহশাহরের একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হলে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় এই হামলার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে, ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল অস্থিরতায় ভুগছে। বিশেষত হরমুজ প্রণালিতে ইইরানের করা সময়োপযোগী অবরোধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে বিশ্ববাজারে চাপ বেড়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে—এটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করছে। নভেম্বরের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই অস্থিরতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
ইরান বলেছে, শনিবার কিছু জাহাজ অননুমোদিতভাবে নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করায় তাদের মোটর কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। ইরানের দাবি, যথাযথ সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও জাহাজগুলো গতিপথ পরিবর্তন না করায় হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) উল্লেখ করেছে, ওই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে যে, আইআরজিসির বিবৃতির প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে তারা পাল্টা হামলা শুরু করে। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল যে, কন্টেইনার জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র কোন পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শত্রুদের নতুন ঘাঁটি’ লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানিয়েছে, এই হামলা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে চালানো হয়েছে; তবে হোয়াইট হাউস থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ঘটনার সঠিক পরিমাপ ও প্রাণহানি-ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রতিদল যাচাই করছে। আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং দুই পক্ষের বিবৃতিকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি মনিটর করছে।