প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রধান উৎস হচ্ছে জনগণ। তাই, জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকলে কোনো বাধাই তাদের রুখে দাঁড়াতে পারবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের উন্নয়ন ও সামনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে গৌরনদীর বাটাজোরে নারীদের ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং মতবিনিময়কালে এই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রত্যেক নারীর কাছে যখন ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা ও উপকারিতা জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন পারুল আখতার নামে এক নারী বলেন, ‘এই কার্ড পাওয়ার ফলে আমি অনেক সমস্যার সমাধান পেয়েছি। আমাদের সংসারের অভাব পূরণ হয়েছে। আমি আশা করি, ভবিষ্যতেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের এই ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন এবং বিপদে-আপদে আমাদের পাশে থাকবেন’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় ৬০০ পরিবারের মত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ হয়েছে। তবে আরও অনেক পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছানো বাকি রয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সকল পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হবে, যাতে নারীরা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, ‘দেখলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে নারীরা সংসার গুছানোর ব্যাপারে কিছু সুবিধা পেয়েছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো, আমাদের মায়েরা যাতে সুখীভাবে বাঁচতে পারেন এবং দেশের মানুষ আরও ভালো থাকুক’।
তারেক রহমান ভাষ্য দেন, দেশের উন্নয়নের জন্য, প্রত্যেক মা ও নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সবাইকে সহযোগিতা, সমর্থন ও একত্রে কাজ করতে হবে। বিএনপি সরকারকে পাশে রেখে মানুষের জন্য কাজ করতে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সৈগঠনিকভাবে জনগণের আস্থা ও সমর্থন পেলে আরও দ্রুত কল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ সম্ভব হবে।
তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সমাজে বড় পরিবর্তন আসবে, যার ফলে নারীরা শিক্ষায় আলোকিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। তিনি সম্প্রদায়ের সকল ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে উন্নত ও শান্তির জীবনযাপন করার জন্য উজ্জীবিত করেন। সবাইকে মানবিকতার ভিত্তিতে মানবাধিকার ও সম্প্রীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। আমাদের লক্ষ্য হলো সকলের জন্য সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’
একই দিন, বরিশালের ত্রিশ গোডাউনে সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান। তিনি জানান, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ দেশ থেকে স্বৈরাচার ও অমানবিকতা দূর হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় সকল ধর্মের মানুষ একসাথে যোগদান করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। এখনো সবাই মিলে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির সূচনা করেন এবং পরবর্তীতে এক দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
পরিবেশের গুরুত্বটাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের কাজ নয়, এ আগামীর দায়িত্ব আমাদের সকলের। আজকের বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবাই অঙ্গীকার করেন, পরিবেশের প্রতি সচেতন থাকব। নিজ নিজ এলাকায়, বাড়িতে, স্কুলে, পরীক্ষায় পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে সবাই নিজস্ব দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাগরদী খাল এলাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যার যত্ন নেওয়া এখন আর শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। এলাকাবাসীকে সক্রিয় হলে খাল সুন্দর ও পরিষ্কার থাকবে। পানিতে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও জলজ কাগজ ফেলা বন্ধ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন। এছাড়াও, খাল সংলগ্ন পাইপের মাধ্যমে বাসা-বাড়ির পানি ঢোকার পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি করে, যা থেকে মুক্তির জন্য শহরবাসীর সচেতনতা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী আলাদা করে বলেন, নিজের আশপাশের পরিবেশ যতটা পরিষ্কার ও সুন্দর রাখা যায়, ততটাই আমাদের জন্য ভালো। অন্য দেশের সুন্দর স্থান সম্পর্কে ভাবলেও, নিজের দেশটাকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে হলে আমাদের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা দরকার। অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে, নিজের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা দিয়ে দেশের পরিবেশ রক্ষায় সবাই এগিয়ে আসতে হবে।
এ সময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণ খালের দুই পাড়ে গাছ রোপণ করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে প্রধানমন্ত্রী ঝটিকা খাবার গ্রহণ করে জোহরের নামাজ আদায় করেন। বরিশালের এই সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।