মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৭ সালের মধ্যে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার

দেশের সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানোর লক্ষ্যে সরকার একটি নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা শুরু করেছে, যেখানে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে জাতিসংঘের সমর্থিত ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ বা নিরাপদ সড়ক কাঠামো। সম্প্রতি, স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ীয় সড়ক নিরাপত্তা বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এই বৈঠকে তিনি নিশ্চিত করেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যেই গৃহীত বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করে দেশীয় আইনি, নীতিগ্রস্ত 및 প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা সংস্কার করা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা-পরবর্তী দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম এবং মহাসড়কে পথচারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরো জানান, ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করা হবে, যা অনুমোদন ও প্রণয়ন করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য দৃঢ় রাজনৈতিক ইচ্ছা, কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্ববোধ অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের এই উদ্যোগে আশা করা যাচ্ছে, এতে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে এবং দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপক পরিবর্তনের মুখোমুখি হবে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই অঙ্গীকারটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের মনে করছে, প্রস্তাবিত এই আইন বাস্তবায়ন হলে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা কেবলই উন্নত হবে না, অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ শব্বির হাসান খান। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দুর্ঘটনা কমাতে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন