দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর ضرورتের কথা আবারও 강조 করেছেন বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশা, বিমসটেকের (বিমসটেকের) সদস্য দেশগুলো নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসে যাতে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হয়।
রবিবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘থ্রি ডিকেডস অব বিমসটেক: অ্যাডভান্সিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি অপরিহার্য।”
শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, “একত্রিত হয়ে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলো পারে এই সংকটের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে।” তিনি তা ছাড়াও শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক প্রতিশ্রুতিগুলো আরও বাস্তবায়ন এবং কার্যকর সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করে এটাকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দিতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের নেতৃত্বে থাকা বিমসটেকের উদ্যোগে অর্থনৈতিক সংহতি, আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্লু ইকোনমি এবং জনগণের জন্য সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আশা, এই সেমিনার থেকে উঠে আসা সুপারিশগুলো বিমসটেকের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমসটেকের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্রমণি পাণ্ডে, যিনি নারীর উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাইবার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক ও মানব নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, পর্যটন, ভিসা সহজীকরণ ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়েও আলোকপাত করেন।
বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনা মূলতঃ গত তিন দশকে বিমসটেকের অগ্রগতি, সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা নির্ধারিত বিভিন্ন খাতের অগ্রাধিকার গুরুত্ব, প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার ও সংযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বাস করেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে। তারা বলেন, এক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব ও তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ আরও কার্যকর হওয়া জরুরি।
এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তাগণ, দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সেনাবাহিনী, উন্নয়ন সংস্থা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।