বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরেন্দ্রে আমন চাষে সেচ-নির্ভরতা বাড়ছে, বাড়তি খরচে দুশ্চিন্তায় কৃষক

বরেন্দ্র অঞ্চলের ধানফসলের মাঠ এখন আমন চারা রোপণে ব্যস্ত। আষাঢ় শেষ হলেও শ্রাবণের পুরো বৃষ্টি না হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষকরা বলছেন, সাধারণ বৃষ্টিই এবার আবাদ চালাতে যথেষ্ঠ নয়। ফলে আমন আবাদে নির্ভরতা বেড়ে গেছে গভীর নলকূপের পানির ওপর — এবং তা সঙ্গে করে এনেছে খরচ বৃদ্ধির সমস্যা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহাডাঙ্গা এলাকা ও নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেকে জমি তৈরি করতেছেন, অনেকেই চারা রোপণে ব্যস্ত। কোথাও গভীর নলকূপের পানি দিয়ে জমি কাদা করা হচ্ছে, আবার সারিবদ্ধভাবে শ্রমিকরা চারা রোপণ করছে। কৃষকরা বলছেন, সামান্য বৃষ্টি হলেও তা ধানের জন্য পর্যাপ্ত জলযোগ দিতে পারছে না, তাই শুরু থেকেই সেচের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে।

নাচোল উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে আমন করছেন। তার মধ্যে ছয় বিঘা জমিতে পুরোপুরি নলকূপের পানি ব্যবহার করতে হয়েছে, বাকি চার বিঘায় কিছুটা বৃষ্টি এসেছিল। তিনি জানালেন, প্রতি বিঘায় সেচের খরচ প্রায় ৬২৫ টাকা, শ্রমিক খরচ প্রায় ৪০০০ টাকা এবং চারা রোপণ ও অন্যান্য খরচগুলো আরও প্রায় ১৬০০ টাকা লাগছে। এই অতিরিক্ত খরচ মিলিয়ে জমির উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

অন্য কৃষক শাহিন আলী বলেন, ধান চাষে খরচ বাড়লেও ধানের দাম সমান হারে বাড়ছে না, ফলত মুনাফা কমে এসেছে। অনেক সময় খরচ মেটালেই কষ্টসাধ্য, প্রকৃত লাভ খুব সামান্য অথবা কোনও লাভই না থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

কৃষকেরা আরও জানান, সেচের খরচ ছাড়াও শ্রমিকের মজুরি, সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে। এতে করে সমগ্র উৎপাদন ব্যয়ের চাপ বাড়ছে এবং ধানচাষে ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে গড় বৃষ্টিপাত ধারাবাহিকভাবে কমেছে। এর প্রভাব পড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের বৃষ্টিনির্ভর ফসল, বিশেষত আমনের উৎপাদনে। অধিদপ্তর মনে করায়, আমনের মতো ফসল এখন ক্রমে সেচনির্ভর হয়ে উঠছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম জানান, এ বছর জেলায় আমন আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে চারিপাশে মাত্র ২ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে। তিনি বলেন, বৃষ্টিপাত কম থাকায় আরও প্রচেষ্টা এবং সেচসহ সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য।

কৃষকরা আশা করছেন দ্রুত নিয়মিত বর্ষা ফিরলে সেচের ওপর নির্ভরতা কমে যাবে এবং খরচও স্বাভাবিক সীমায় ফিরে আসবে। তবে অবিলম্বে সেচ ব্যবস্থার উন্নতি, নলকূপ ও পানির টেকসই ব্যবহার এবং সরবরাহযোগ্য কৃষি সহায়তা না হলে চলতি বছরের আমন চাষে ঝুঁকি ও ব্যয় দুইই বৃদ্ধি পেতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন