শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙ্গুড়ায় ছয় বছরেও তালাবদ্ধ দেড় কোটি টাকার আধুনিক গ্রামীণ মার্কেট

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ মার্কেটটি ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও চালু করা যায়নি। দোকান বরাদ্দ না হওয়ায় উপজেলার ময়দানদিঘী বাজারস্থ এই আধুনিক দুতলা ভবন দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে স্থানীয়রা ওই নির্মাণকৃত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারের বারবারের রাজস্বও হারানো হচ্ছে।

জানা যায়, দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই ময়দানদিঘী বাজারে মার্কেট ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ওই কাজ সম্পন্ন করে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় করে। ভবনটি ২০২০ সালে নির্মাণ হয়ে শেষ হয় এবং ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

ভবনটিতে মোট ১৪টি দোকান রাখা হয়েছে। নিচতলায় কাঁচা বাজার ও মাছ-মাংসের জন্য জায়গা রাখা হয়েছে, আর উপরের তলায় হার্ডওয়্যার, গার্মেন্টস ও কসমেটিক্সসহ বিভিন্ন দোকান চালু করার পরিকল্পনা ছিল। এছাড়া ভবনটিতে পানি ও টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে চালু না হওয়ায় এসব সুবিধা জনগণের কাজে লাগছে না। ময়দানদিঘী বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, ‘‘প্রায় ছয় বছর হলো ভবনটি বানানো শেষ হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত দোকান বরাদ্দ হয়নি। তাই বিল্ডিংটি তালাবদ্ধই আছে। স্থানীয়রা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’’

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক খান বলছেন, ‘‘দেড় কোটি টাকার এই বাজার ভবন দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহারহীন পড়ে আছে। শিগগিরই এটি খোলা গেলে স্থানীয় লোকজন উপকৃত হবেন এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।’’

খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন মিঠু জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলেছেন। অফিসারদের নিয়ে বসে বাজারের দোকান বরাদ্দ ও পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে—এমনটাই তিনি বলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামানও বলেন, মার্কেটটি চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। স্থানীয়রা আশা করছে দ্রুত একটি কার্যকর পরিকল্পনা করে দোকান বরাদ্দ ও পরিচালনার দায়িত্ব নির্ধারণ করে বাজার চালু করা হবে, যাতে দীর্ঘদিন পর নির্মিত এই সম্পদটি সকলে উপভোগ করতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন