শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের এবং বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ নেওয়া ও ব্যবসা সম্প্রসারণে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকার চাইছে একটি নিয়মভিত্তিক, বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বেসরকারি খাতকে প্রধান করে পরিচালিত অর্থনীতিই গঠিত হোক।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ঢাকা চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটির উদ্বোধন জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হয় এবং পরে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন মূলধন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার তাদের পাশে থেকে সকল প্রকার সহায়তা এবং সময়োপযোগী নীতিমালা নিশ্চিত করবে। ‘এটি কেবল আশ্বাস নয়, আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি’—মর্মে তিনি বললেন।

তারেক রহমান দ্রুত বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ও জনসমর্থনকে বাংলাদেশের শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কিন্তু সম্ভাবনা আরও বেশি। এই শক্তিগুলো মিলিয়ে দেশকে টেকসই ও স্থায়ী সমৃদ্ধির পথেই নিয়ে যাচ্ছে।’

বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে উঠে আসা প্রত্যাশাগুলো—বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজীকৃত কর প্রশাসন, মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো—সবকটিই সরকার গভীরভাবে গ্রহণ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব অনুরোধ বাস্তবে পরিণত করতে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনি ও রেগুলেটরি কাঠামো আধুনিকীকরণ, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ এবং মুনাফা প্রবাসে পাঠানোর প্রক্রিয়া ঝামেলামুক্ত করার উদ্যোগ চলছে। পাশাপাশি গতিশীল পুঁজিবাজার গঠন, স্টার্টআপ উৎসাহনে নীতিমালা, অপ্রয়োজনীয় বিধিমালা শিথিলকরণ, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সরলীকরণ ও সরকারি সেবার ডিজিটাইজেশনের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

জ্বালানি নিরাপত্তা, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো উন্নয়নে এবং নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোরও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিনিয়োগকারীদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘আপনারা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন, আধুনিক প্রযুক্তি এনেছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করেছেন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন।’

সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ছয়শ’ জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহীরা, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক নেতারা। এফআইসিসিআই সভাপতি ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালী হক চৌধুরী সভার সূচনা বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের একাংশে ‘‘ফিকি এফডিআই’’ প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও শক্তিশালীকরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করে অংশগ্রহণকারী কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে কথাবার্তা বলেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিনিয়োগকারী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী সমাপনী বক্তব্যে বললেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না, বরং দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপরও নির্ভরশীল।’ তিনি দেশী ও বৈশ্বিক বিশিষ্ট ব্যবসায়িক নেতাদের একসঙ্গে যোগ দিয়ে একটি ন্যায়বিচারসম্পন্ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থায়ী অর্থনীতি গঠনে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

পোস্টটি শেয়ার করুন