প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মোট চারজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাহরাইন ও দুবাইয়ে একজন করে এবং সৌদি আরবে দুইজন মারা গেছেন।
দুবাইয়ে নিহত আহমদ আলীর লাশ ঢাকায় পৌঁছলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও নিহতের স্বজনরাও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সরকার নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনে কূটনৈতিক সহায়তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১৪ জন প্রবাসী আহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণাঙ্গ সেবা প্রদানে ব্যস্ত রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, বিদেশগামী ও সেখানে অবস্থানরত শ্রমিক ও পরিবারগুলো যেন সংঘর্ষপূর্ণ এলাকা এবং বিশেষত যেসব স্থান হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে সেগুলো থেকে দূরে থাকে। প্রতিমন্ত্রী সতর্কতা জোর দিয়ে বললেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নির্দেশনা—যথা সাইরেনের আওয়াজে সেফ জোনে যাওয়া—মেনে চলতে হবে এবং কোনো আইনবিরোধী বা উস্কানিমূলক কনটেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা যাবে না।
বিমানবন্দরে থাকা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘এ পরিস্থিতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক; আমরা যেভাবে বলি, নাগরিকদের নিরাপত্তা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’ তিনি দুর্ঘটনায় প্রভাবিত পরিবারগুলোকে সবরকম সহযোগিতা নিশ্চিত করারও কথা reiterated করেন।
নিহত আহমদ আলীর মরদেহ আজ সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটসের ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছায়। পরে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট বিমানবন্দরে লাশ গ্রহণ করে নিহতের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় নিয়ে গিয়ে দাফন সম্পন্ন করবেন।
সরকারি কর্মকর্তারা আবারও প্রবাসী কর্মীদের সতর্ক করেছেন—যতটা সম্ভব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও কূটনৈতিক অভিযোগ কেন্দ্রের নির্দেশনা মেনে চলতে।





