মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাঙামাটির জুরাছড়ি থেকে এনসিপির ৮৭ নেতা-কর্মীর গণপদত্যাগ

রাঙামাটির জुरাছড়ি উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উপজেলা কমিটির আহ্বায়কসহ একযোগে ৮৭ জন নেতা ও কর্মী পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৯ মার্চ) এক জরুরি সভার পর বাধ্য হয়ে—or সিদ্ধান্ত নিয়ে—দলটির পূর্ণাঙ্গ কমিটির সকল সদস্য একসঙ্গে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আহ্বায়ক অসিম চাকমা ও যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা। তাদের পদত্যাগপত্র ইতোমধ্যেই রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি জেলা কমিটি জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির ৮৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিকে ছয় মাসের জন্য অনুমোদন দিয়েছিল। দায়িত্ব নেবার মাত্র দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই দলীয় রাজনৈতিক অমীমাংসিত মতভেদের কারণে পুরো কমিটি পদত্যাগের পথে হেঁটেছে।

পদত্যাগকারী নেতারা বলেন, তাঁরা জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে সামনে রেখেই এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট-বেঁধে যাওয়ার প্রক্রিয়ো দলের স্বকীয়তা ও মূল আদর্শকে ক্ষুণ্ণ করেছে—এমন অভিযোগ তাদের। অসিম চাকমা জানান, দলের বর্তমান নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত ও আদর্শিক অবস্থান মেলাতে অসুবিধা হচ্ছিল, ফলে আদর্শ থেকে আপস না করে পদত্যাগ করাই তাদের জন্য সঠিক পথ ছিল। তিনি বলেন, তারা আশা করেছিলেন দল স্বাধীনভাবে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নেবে, কিন্তু জোটের রাজনীতি সেই প্রত্যাশাকে ম্লান করেছে।

রাঙামাটি জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা জুরাছড়ি কমিটির পদত্যাগপত্রটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা বলেছেন, তারা যাচাই করছেন পদত্যাগপত্রগুলো নিয়মমাফিক লিখিতভাবে জমা পড়েছে কি না। তিনি এ বিষয়ে বিস্ময়ও প্রকাশ করেন যে, যদি জোট বা জামায়াত সংশ্লিষ্ট ইস্যুই প্রাথমিক কারণ হতো, তা হলে পদত্যাগ নির্বাচনের আগে হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনের পর এই গণপদত্যাগের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক মহলের চাপ থাকার সম্ভাব্যতাও তিনি উত্থাপন করেছেন। তবে অসিম চাকমা এসব অভিযোগ খন্ডন করে বলেছেন, তারা সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছায় এবং দলের আদর্শ রক্ষার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পার্বত্য এলাকায় এ ধরনের বড় ধরনের গণপদত্যাগের ফলে এনসিপির আঞ্চলিক সাংগঠনিক কার্যক্রমে শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। স্থানীয় কর্মীশক্তি ও নেতৃত্ব শূন্য হলে জেলার সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলীয় উপস্থিতি ও কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সংশয়ের কথা জানিয়েছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন