বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরান দাবি করেছে: তেলআবিবের স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ধ্বংস

ইরান অভিযোগ করেছে যে সোমবার (৯ মার্চ) রাতভর তেলআবিভের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং তেলআবিভে অবস্থিত একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। এই দাবিটি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি), আর খবরটি ছড়িয়েছে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের মাধ্যমে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, অ্যারোস্পেস ফোর্সের একটি বিশেষ অভিযানে আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে তেলআবিভের ওই স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রটিকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হয়েছে। তারা বলেছে, ওই কেন্দ্রটি ইসরায়েলের যুদ্ধবিমানের স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো ছিল। এই তথ্য তাসনিম ও আইআরজিসির উদ্ধৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট হিসেবে কিছু প্রতিবেদন বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির শীর্ষ স্তরের এক ঘটনার পর উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে এবং সেই পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি মোকাবিলার ফলে ঘনঘন সামরিক অপারেশন চলে—তবে এই ধরনের বড় বিবৃতিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ইরানজুড়ে সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলার খবরও এসেছে, যার কারণে হতাহতের এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির বিজ্ঞপ্তি পাওয়া গেছে, কিন্তু নির্দিষ্ট সংখ্যাগুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে, মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, গত দশ দিনে ইরানের বিরুদ্ধে হাজারের বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে এবং ধ্বংসকৃত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে কয়েকটি নৌযানও রয়েছে। সেন্টকোম বলেছে, তালিকাভুক্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ৫০টিরও বেশি ইরানি যুদ্ধজাহাজ বা নৌযান রয়েছে—এই দাবিও তাদের বিবৃতির ভিত্তিক।

ইরানের পক্ষ থেকে দাখিল করা কিছু রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে আঘাতের ফলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর আহত হয়েছেন; এসব তথ্য তাসনিম প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এ ধরনের গুরুতর দাবিগুলো স্বাধীন সংবাদমাধ্যম এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সূত্রে এখনও নিশ্চিতভাবে যাচাই করা হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তথ্যের অভাব রয়ে গেছে; সংঘাত দ্রুত গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রতিদাবি-প্রতিবাদ চলছে। স্বাধীন সূত্রে যাচাইহীন দাবি ও সরকারি বক্তব্য আলাদা করে দেখা এখনও জরুরি।

পোস্টটি শেয়ার করুন