মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত থেকে উদ্ভূত অর্থনৈতিক কাঁপুনি মোকাবিলায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সমন্বিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অঞ্চলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে এডিবি দ্রুত, নমনীয় ও সম্প্রসারণযোগ্য সহায়তা দিতে যাচ্ছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য দ্রুত চাপ শমন করা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্ডা বলেন, ‘তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় এবং ভবিষ্যতে স্থিতিশীলতা জোরদারে আমরা দ্রুত কার্যকর সহায়তা প্রদান করবো। এর মধ্যে দ্রুত ছাড়যোগ্য বাজেট সহায়তা এবং বাণিজ্য ও সরবরাহ চেইন অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে প্রয়োজনীয় পণ্য—বিশেষত জ্বালানি তেল—আমদানি অব্যাহত রাখা যায়।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংস্থার কাছে বিদ্যমান ও পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং জরুরি সময় আরও সহায়তা বাড়ানোর পর্যাপ্ত ক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজনে কাউন্টার-সাইক্লিক্যাল ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন আর্থিক উপকরণ ব্যবহার করে কৌশলগত সহায়তা দেয়া হবে।
এডিবি বিশ্বের বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে—বিশেষত জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন পরিবহন খরচ ও সময় উভয়ই বাড়িয়েছে, ফলে সরবরাহশৃঙ্খলে ব্যাঘাত দেখা যাচ্ছে।
এতে পেট্রোকেমিক্যাল, সারসহ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কৃষি এবং খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটন ও প্রবাসী আয় নির্ভর দেশগুলো এই ধাক্কায় বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনিশ্চয়তা বাড়ায় আর্থিক পরিবেশ কঠোর হচ্ছে, যা মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার ওপর চাপ এবং পুঁজি প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই প্রেক্ষাপটে এডিবি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সময়োপযোগী আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
সহায়তা প্যাকেজের প্রথম ধাপে দ্রুত ছাড়যোগ্য বাজেট সহায়তা দেয়া হবে; সেখানে কাউন্টার-সাইক্লিক্যাল সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি ব্যবহার করা হবে। এছাড়া ট্রেড অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সহায়তা করে জ্বালানি, খাদ্যসহ জরুরি পণ্য আমদানির ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।
সংস্থাটি সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় তেল আমদানিতে সহায়তা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির ও সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব কমাতে সহায়ক হবে।
এডিবি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে এবং সরকার, উন্নয়ন অংশীদার ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বর্তমানে ৬৯টি সদস্য দেশ রয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলভিত্তিক। সংস্থাটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।





