আওয়ামী লীগের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সোমবার (২২ জুন) দুপুর একটায় বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিল ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষে পরিবহন চত্তরে সমাপ্ত হয়।
মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠী আখ্যা দিয়ে তাদের সব ধরনের কার্যক্রম দমন করার হুঁশিয়ারি দেন। সমাবেশে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কণ্ঠে সরকারবিরোধী ও তীব্র স্লোগান দেন; মিছিলে ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ কয়েকটি আগ্রাসী স্লোগানও শোনা যায়, যা তারা বিক্ষোভের অংশ হিসেবে উচ্চারণ করেন।
শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ মন্তব্য করেন, ‘শাসকদলের শাসনামলে দেশে হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে; সেই কারণে সাধারণ মানুষ আর আওয়ামী রাজনীতি দেখতে চায় না।’ তিনি দাবি করেন, যারা অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা যদি আওয়ামী লীগের পুনরুদ্ধার বা প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করেন, তবে গণতান্ত্রিক জনতা তা মেনে নেবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘স্বৈরাচার জনপ্রিয় অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে; হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ফলে তাদের এখানে থাকা মেনে নেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইঞ্চি আমাদের নজরদারিতে রাখতে হবে যাতে ছাত্রলীগ কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে।’
রাহী আরও ঘোষণা করেন, ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে ধরে আদালতে প্রেরণ করতে সহযোগিতা করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ২৩ তারিখ থেকে বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীলতা ছড়ানোর ষড়যন্ত্র করছে এবং তার মোকাবিলায় ফজরের নামাজের পর থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভে থাকা নেতারা তাদের মনোভব, অভিযোগ ও কর্মসূচি প্রকাশ করেন; উপস্থিতীরা আইনি ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের ডাক দেন।