শনিবার, ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে তিন জাহাজে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি আসছে

পাঁচ দিনের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে—এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনটি ট্যাংকারের মধ্যে একটি ইতোমধ্যে কুতुबদিয়া উপকূলে পৌঁছে গেছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে আসা ‘এইচএল পাফিন’ নামের ট্যাংকার বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দেশীয় জলসীমায় প্রবেশ করে। বাকি দুটি—ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬১ হাজার টন বোঝাই ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন নিয়ে ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’—আগামী বুধবার (১ এপ্রিল) মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো अपेक्षित।

স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানান, পরিকল্পিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্যাংকার দুটিই নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাবে বলে তাদের তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশে এলএনজি আমদানি করা উৎস নিয়ে উদ্বেগ থাকার সময়ে এই সরবরাহ আশা যোগাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশই কাতার থেকে আসে। মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্রোহ ও উত্তেজনার কারণে কাতার থেকে সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাতার থেকে দুইটি ট্যাংকার আসার কথা থাকলেও তারা সময়মতো না আসায় সমস্যা দেখা দিয়েছে; এর মধ্যে একটি ট্যাংকার Ras Laffan বন্দর থেকে এলএনজি বোঝাই অবস্থায় আটকে রয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানানো হয়েছে, এই মাসে এখন পর্যন্ত মোট সাতটি এলএনজি ট্যাংকার দেশে এসেছে; যেখানে সাধারণত প্রতি মাসে ১০ থেকে ১১টি ট্যাংকার আসে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা দেশের এলএনজি আমদানির দায়িত্বে রয়েছে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আনার চেষ্টা চলছে এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত বড় ধরনের সরবরাহ সংকট হবে না বলে তাদের ধারণা।

তবে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিকল্প সরবরাহ চ্যানেল খোঁজা এবং বর্তমান সময়সূচি মেনে আমদানি নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন