ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীও আওয়ামী লীগের অনুসরণ করছে। তিনি এই মন্তব্য করেন স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের আলোচনা সভায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালেই।
আব্দুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, গত ১৭ বছরে দেশকে আধিপত্যবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ‘‘আওয়ামী লীগ যে পথে গেছে, জামায়াতও সেই পথে হাঁটছে,’’ তিনি বলেন তবে যোগ করেন, ‘‘তারেক রহমানের কারণে তারা পুরোপুরি সফল হতে পারেনি।’’ তিনি বলেন, রাজনীতি দিয়েই আমরা আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করেছি এবং জামায়াতকেও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।
প্রবাসী নেতার বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাকে সফল করার জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আত্মত্যাগ করেছেন, আর বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করেছেন ও আপস করেননি। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানও সেই ধারাবাহিকতায় কাজ করে যাচ্ছেন।
আব্দুস সালাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন—মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় গঠন করে। তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন ও জনগণের বরণ সেই ভালোবাসার প্রমাণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ হাজার কোটি টাকা খরচ করে তারেক রহমানকে ছোট করার চেষ্টা করেছে এবং একই ধরনের প্রয়াস হয়েছে জামায়াতের পক্ষ থেকেও। ‘‘দুই শক্তির বিরুদ্ধে লড়ে জনগণের সঙ্গে থাকার কারণে বিএনপি টিকে আছে,’’ তিনি বলেন। তিনি বলেন, এই দলগুলো সংসদ ও সরকারের প্রতি অসহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছে।
আরও বলেন, ‘‘প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আজ দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে আমরা দেখছি। সংসদে যখন জাতীয় সঙ্গীত বাজে, তখন তাদের আচরণ কী—সেটাও আমরা দেখেছি। কিছু পক্ষ এখনও পাকিস্তানভিত্তিক স্বপ্ন দেখে,’’ তিনি দাঁড় করিয়ে দেন এটি একটি অভিযোগ হিসেবে। তিনি বক্তব্যে এমন ইতিহাস ও মনোভাব নিয়েও সমালোচনা করেন।
উল্লেখ্য, আব্দুস সালাম দাবি করেন জিয়াউর রহমান বলতেন ‘‘টাকা কোনো ব্যাপার না, শুধু দুর্নীতিটা বন্ধ করতে হবে’’ এবং বলেন, তারেক রহমানও সেই একই পথে চলছেন। শেষ অংশে তিনি নতুন সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন, বলেন—নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা দেয়া হচ্ছে।