মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সারাদেশে অভিযান: অবৈধভাবে মজুত ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার তেল উদ্ধার

সরকার জ্বালানি মজুতদারি ও পাচারের বিরুদ্ধে কড়া নীতি গ্রহণ করেছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং নানা রকম তৎপরতায় সারাদেশে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই সূত্রে বলা হয়েছে, এ অভিযান জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে এবং অবৈধ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কেনার প্রবণতা রয়েছে। কেউ কেউ বাড়তি তেল কিনে বাড়িতে মজুদ করছেন, যা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমানে দেশের জ্বালানির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় স্বাভাবিক আছে।

জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরও জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও চক্র বড় আকারে তেল মজুত করে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিহত করার জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে এবং জনগণকে এই বিভাগে সহযোগীতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরকারি পরিকল্পনা এবং আমদানি সম্পর্কেও জানানো হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও দুইটি কার্গো জ্বালানি তেল আসছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা শিথিল (স্যাংশন ওয়েভার) প্রাপ্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে। ঈদের আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডেপার্টমেন্টের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং ঈদের পরদিন ওয়াশিংটনে প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে; এখন তার জবাবের প্রতীক্ষা চলছে।

যুগ্ম সচিব জানান, বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে দুই মাসের পর্যাপ্ত বলে মোটামুটি ছয় লাখ টনের ডিজেল আমদানি করতে চান এবং এই অনুমতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তারা আমাদের চিঠির প্রতিক্রিয়া জানালে পরবর্তী চাহিদা ও সরবরাহ নিশ্চিত করার কাজ দ্রুত এগোবে।

অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের শনাক্তে সরকার সাধারণ মানুষের সহায়তা চাইছে। তেল মজুতকারীদের তথ্য প্রদানকারীকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনকে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিলে পুরস্কার দেওয়া হবে এবং তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরস্কার প্রদানের প্রক্রিয়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হবে; তথ্য যাচাই ও প্রশাসনিক অনুমোদন পেলে দ্রুত অর্থ প্রদান করা হবে। এ আর্থিক সম্মানী দেশের সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য উন্মুক্ত।

সরকারের লক্ষ্য বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা। তাই যারা তেল মজুদ বা পাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং কোনো তথ্য থাকলে তা দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন