জার্মান ফুটবলে বায়ার্ন মিউনিখের আধিপত্য আবারও প্রমাণিত হলো। রোববার ঘরের মাঠে স্টুটগার্টকে ৪-২ গোলে হারিয়ে বাভারিয়ানরা টানা ৩৫তম বুন্দেসলিগা শিরোপা নিশ্চিত করেছে — সেটিও লিগের খেলা শেষ হওয়ার চার ম্যাচ হাতে রেখেই।
ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন হ্যারি কেইন। যদিও তিনি শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামেই এক দুর্দান্ত গোল করে দলের জয়কে নিশ্চিত করেছেন। এটি চলতি মৌসুমে লিগে কেইনের ৩২তম গোল। কেইনের ধারাবাহিক বিধ্বংসী ফর্মই পুরো মৌসুমে বায়ার্নকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে।
এই জয়ের ফলে বায়ার্ন পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ১৫ পয়েন্টে পিছিয়ে রেখেছে — লিগে মাত্র চারটি ম্যাচ বাকি থাকায় ডর্টমুন্ডের পক্ষে বায়ার্নকে টপকানো এখন বাস্তবে অসম্ভব। গত ১৪ মৌসুমের মধ্যে ১৩টিতেই শিরোপা জেতা বায়ার্নের এই দাপট জার্মান ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য নজির।
দলের অধিনায়ক জশুয়া কিমিচ ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এই শিরোপা ‘খুবই বিশেষ’ বলে অভিহিত করেন। এটি তাঁর বায়ার্নে ১০ম লিগ শিরোপা। তিনি বলেন, পুরো মৌসুমে দলের ধারাবাহিকতা এবং একজোটি অদ্ভুতভাবে শক্তিশালী ছিল, যা ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
পরিসংখ্যানগুলোও বায়ার্নের দাপট স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। এবারের মৌসুমে তাদের মাত্র এক ম্যাচে পরাজয় হয়েছে — জানুয়ারিতে অগসবার্গের বিপক্ষে — এবং চারটি ড্রসহ বাকি সব ম্যাচে জয়ই নিয়েছে তারা। এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের জালে বায়ার্নের গোলের সংখ্যা ১০৯, যা বুন্দেসলিগার জন্য নজরকাড়া এক কৃতিত্ব।
কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির জন্যও এটি বড় এক সাফল্য। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর ওপর অনেকেই সন্দেহ করেছিল যে বড় ক্লাবের চাপ তিনি কীভাবে সামলাবেন; টানা দ্বিতীয় মৌসুমে লিগ শিরোপা জেতার মাধ্যমে তিনি সেই সব সংশয় উড়িয়ে দিয়েছেন।
তবে শান্ত হওয়ার সময় এখন নয়। বায়ার্নের সামনে এখনো বড় দুটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে — বুধবার জার্মান কাপে বেয়ার লেভারকুসেনের সঙ্গে সেমিফাইনাল ম্যাচ এবং ২৮ এপ্রিল চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষা। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন নিয়ে বায়ার্ন এখন পরের চ্যালেঞ্জগুলোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, সমর্থকদের উল্লাস আর সংবর্ধনার মধ্যে থেকে।