সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরের জন্য স্পষ্ট ও অনুসরণীয় প্রটোকল নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশাবলি জারি করেছে। নির্দেশাবলিতে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত উপস্থিতি, দায়িত্ববণ্টন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকগুলো বিস্তারিতভাবে ঠিক করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে বলা হয়েছে, এই সংক্রান্ত নির্দেশাবলিটি গত ১৬ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়েছে।

নির্দেশাবলির প্রধান দিকগুলো সংক্ষেপে:

বিশেষ নির্দেশাবলি:

– বিদেশ যাওয়া এবং ফিরে আসার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।

– দেশের ভ্রমণের সময় মন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনের স্থলে মন্ত্রণালয়/বিভাগের একান্ত সচিব উপস্থিত থাকবেন, প্রয়োজনে প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একান্ত সচিব থাকা বাধ্যতামূলক।

– জেলা শহরে সম্ভব হলে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা আগমন ও বিদায়ের সময় সংবর্ধনা দেবেন।

– জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার যদি উপস্থিত না থাকেন, তবে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সংবর্ধনা দেবেন; তবে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রী ইচ্ছা করলে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার তাদের নিজস্ব সফর বাতিল করে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

– উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাই অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন; সাধারণত জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের উপস্থিতি আবশ্যক নয়।

– বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনে আগমন ও প্রস্থানের সময় আবশ্যক না হলে ঢাকা/চট্টগ্রাম/কক্সবাজার/যশোরের জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই; যশোর ও কক্সবাজারে পুলিশ সুপার/মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনাররাও এই রীতিতে বর্ধিত নয়।

– কোনো জেলা বা উপজেলায় আগমন/প্রস্থানের সময় যদি আশপাশের জেলার বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন ট্রানজিট স্থানে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের উপযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

– বিভাগীয় কমিশনার সদরদফতরে উপস্থিত থাকলে মন্ত্রীর আগমনের পর সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে পারেন।

– সফরসূচি পেলে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।

– রেলযোগে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট রুটের স্টেশন/ফাঁড়িকে জানাবেন; যে স্টেশনে অবতরণ বা পুনঃআরোহণ বা ট্রেন বদল প্রয়োজন, সেসব স্থানে পুলিশের একজন পরিদর্শক/উপপরিদর্শক উপস্থিত থাকবেন। চট্টগ্রামে রেলযোগে আগমন-প্রস্থানের সময় সেখানে চট্টগ্রাম রেলওয়ের পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন।

সাধারণ নির্দেশাবলি:

– মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর সফরসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সময়মতো জানাতে হবে; সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে সেটিও দ্রুত জানানোর বিধান রয়েছে।

– সার্কিট হাউস বা সরকারি রেস্ট হাউস ছাড়াও যদি মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিজ বাড়ি বা অন্যত্র থাকেন, তবু রাষ্ট্রাচার সম্পর্কিত নির্দেশাবলি প্রযোজ্য থাকবে; নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের।

– সফরসূচি তৈরির সময় সফরটি সরকারি নাকি ব্যক্তিগত তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে। সরকারি সফরে যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা মন্ত্রণালয় করবে; ব্যক্তিগত সফরে যদি সরকারী যানবাহন বা বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে প্রচলিত নিয়মমাফিক মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

– মন্ত্রীর একান্ত সচিব ও সহকারী একান্ত সচিবগণ মন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী এসব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ জানায়, এই নতুন নির্দেশাবলি ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট জারি হওয়া পূর্বের নির্দেশাবলির স্থলে কার্যকর হবে। নির্দেশাবলির উদ্দেশ্য—সফরকালে দায়িত্বের স্পষ্টতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় ভ্রান্তি ও ঝামেলা কমানো।

পোস্টটি শেয়ার করুন