যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের শ্রেভপোর্টে রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে এক অমানবিক ও মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় তিনটি বাড়িতে হামলা করে ৩১ বছরের এক পিতা মোট আট শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছেন; তাদের মধ্যে সাতজনই তাঁর নিজের সন্তান। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিহত শিশুদের বয়স মাত্র ৩ থেকে ১১ বছরের মধ্যে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী নিহত শিশুরা হল — জায়লা এলকিন্স (৩), শায়লা এলকিন্স (৫), কায়লা পিউ (৬), লায়লা পিউ (৭), মারকেডন পিউ (১০), সারিয়া স্নো (১১), খেডারিওন স্নো (৬) এবং ব্রেলন স্নো (৫)। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই কোমলমতি শিশুদের জীবন শেষ করে দেওয়া হয়েছে।
কর্পোরাল ক্রিস বোর্ডেলোন জানিয়েছেন, হামলাকারীর নাম শামার এলকিন্স (৩১)। তিনি প্রথমে তাঁর স্ত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, এতে স্ত্রী গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন; হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়েছে তিনি প্রাণের ঝুঁকিতে আছেন। এরপর এলকিন্স আরও দুইটি বাড়িতে গিয়ে ধাক্কা দিয়ে একে একে শিশুদের ওপর গুলি চালান। ঘটনার সময় এক নারী আত্মীয়ও গুরুতর জখম হন।
একটি ঘটনায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর ব্রতক্ষেত্রে প্রাণে বেঁচে গেল—ঘাতকের হাত থেকে পালাতে তিনি ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন। লাফানোর ফলে তাঁর শরীরের কয়েকটি হাড় ভেঙে গেলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
শামার এলকিন্সের অতীতেও সহিংসতার ছাপ রয়েছে। ২০১৯ সালে তিনি স্কুলের সামনে এক ব্যক্তির গাড়িতে পাঁচটি গুলি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি লুইজিয়ানা আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে সাত বছর চাকরির পর ২০২০ সালের আগস্টে সেখান থেকে মুক্তি পান; সামরিক সূত্র জানায়, তাঁর কোনো সামরিক অভিযানে মোতায়েন থাকার রেকর্ড নেই।
হামলার তৎপরতায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং পাল্টা ধাওয়ার সময় শামার এলকিন্সকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়; তিনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে রয়েছেন। তদন্তকারীরা হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তৎপর; দেশজোড়া বন্দুক সহিংসতা ও পারিবারিক অস্থিরতার প্রসঙ্গে নতুন করে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা এ ঘটনার পর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অনেক প্রশ্ন অপরিসীম রয়েছে—শহরবাসী এবং নিহত পরিবারগুলোকে ততœসমর্থন ও স্বচ্ছ তদন্তেই বর্তমান প্রয়োজন বলা যায়।