মঙ্গলবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেকাসিতে দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার উপকণ্ঠে বেকাসি এলাকায় সোমবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া দুই ট্রেনের সংঘর্ষে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮৪ জন, এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক করেছেন।

স্থানীয় সময় ওই রাতেই একটি কমিউটর ট্রেন ও একটি দূরপাল্লার ট্রেন মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। রাষ্ট্রায়ত্ত রেলওয়ে কোম্পানি কেএআই-এর মুখপাত্র কারিনা আমান্দা জানিয়েছেন, ঘটনার পরে স্থানীয়রা ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ঢিলে-ঢালে চলা উদ্ধারকাজে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা যাত্রীদের নিখোঁজ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসারনাসের প্রধান মোহাম্মদ স্যাফি জানিয়েছেন, সংঘর্ষের কারণে বগিগুলো মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং দুর্ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় উদ্ধারকাজ করা কঠিন হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ কেটে মানুষের গতিময় অবস্থান নিশ্চিত করতে উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার ব্যবহার করে ট্রেনের ধাতব কাঠামো কেটে তল্লাশি চালাচ্ছেন।

উদ্ধারকর্মীরা ইতিমধ্যেই সংঘর্ষে লিপ্ত ট্রেন দুটিকে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছেন এবং প্রতিটি বগিতে নিবিড় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বগির নিচে চাপা পড়ে থাকা যাত্রীদের জীবন রক্ষার জন্য কাজগুলো ধীরগতিতে করা হচ্ছে যাতে আরও ক্ষতি বা ভাঙচুর না ঘটে।

প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহতের খবর সামনে এলে সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় রূপ নেয়। সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় শোক কাঁপে এবং রাজধানীসহ আশপাশের রেল পথে যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে গেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যাতে একই লাইনে কীভাবে দুটি ট্রেন চলে এলো এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন করা যায়। তদন্তের ফলাফল সামনে না আসা পর্যন্ত রেল চলাচল ও সিগন্যালিং ব্যবস্থার ওপর নজরদারি জোরদার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্ধার ও চিকিৎসা কাজে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলো বলেছে—রাতভর ও সকালেও কাজ চলছে, এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অফিসিয়াল সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সহায়তাও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন