দেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলোতে সরকার যে নগদ প্রণোদনা দেয়, তাতে উৎসে কর বাড়ানোর প্রস্তাব করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় বাজেটে বর্তমানে প্রণোদনার ওপর ধার্য করা ১০ শতাংশ উৎসে করকে ২০ শতাংশ করা ভাবা হচ্ছে। এই নীতিগত পরিবর্তন হলে আগামী অর্থবছরে সরকারের কাছে আনুমানিক অতিরিক্ত ৯০০ কোটি টাকার রাজস্ব আসতে পারে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনার জন্য মোট ৯ হাজার ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা আছে। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের করপোরেট কর হার বর্তমানে ২২ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত থাকার পর ১০ শতাংশ উৎসে কর যথেষ্ট কম বলে মনে করা হয়; রাজস্বভিত্তি মজবুত করতে তাই কর বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। এখানে ‘উৎসে কর’ বলতে বুঝানো হচ্ছে প্রণোদনা বা অনুদান প্রদানের সময়ই ওই অর্থ থেকে কর কেটে নেওয়া।
তবে রফতানিকারক ব্যাবসায়ী সংগঠনগুলো এই পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিকারক সম্ভাগগুলোর মধ্যে অন্যতম বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ রপ্তানিকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সময়ে কর বাড়ানো হলে প্রণোদনার প্রকৃত সুবিধা ক্ষুণ্ন হবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা বাড়বে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত কয়েক বছরে প্রণোদনার হার কমানো হয়েছে; এখন এগুলো আমাদের জন্য প্রায় দান-অনুদানের মতো। আমরা আগে থেকেই অনুরোধ করেছিলাম প্রণোদনার ওপর আরোপিত কর আদায় বন্ধ করতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কর বাড়ানো অযৌক্তিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, সরকার আগেই তাদের আশ্বস্ত করেছিল যে আগামী বাজেটে করহার বাড়ানো হবে না। বিজিএমইএ-র এক শীর্ষ নেতা এক গণমাধ্যমকে বলেছেন, সরকার বলেছিল বাজেটে তারা কর সুবিধা চাইবে না, তবু কর বাড়ানো হবে না—এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল; এখন সেই আশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকার কথাই শোনা যাচ্ছে।
এনবিআরের এক বিশেষ বৈঠকে এই প্রস্তাবটা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তৈরি পোশাক, চামড়া, পাটসহ মোট ৪৩টি রপ্তানি খাত বিভিন্ন হারে এই নগদ সহায়তা পাচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবটি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, এনবিআর ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে আলোচনা চলবে এবং আগামী বাজেট প্রক্রিয়ায়ই চূড়ান্ত সমাধান আসবে কিনা তা নির্ধারিত হবে।