বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা পেয়েছি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশ বর্তমানে অতীত সরকারের অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের ফলে গঠিত বিরাট আর্থিক বোঝা বহন করছে। বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর উত্তরায় মাসব্যাপী ইসলামী প্রতিযোগিতা ‘আলোকিত মাহে রমাদান’ চূড়ান্ত বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন এক সময় দেশের দায়িত্ব নিয়েছি, যখন বিগত সরকারের লুটপাট ও অবহেলার ফলে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা আমাদের উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়তে হয়েছে। প্রতি বছর আমাদের প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হয়। একই সময়ে রপ্তানি আয় বছরে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার, আর রেমিট্যান্স থেকে আয় প্রায় ২০ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার। তবে আমাদের অর্থনীতি আমদানিনির্ভর—প্রতিবছর প্রায় ৬০–৭০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করতে হয়। ফলে বৈদেশিক ঘাটতি ও বাজেট ঘাটির সঙ্গে দাঁড়াতে হচ্ছে।’

স্বপন আরও বলেন, অতীতের লুটপাটের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ফলস্বরূপ সাধারণ মানুষই এই দায়ভার উপভোগ করছেন। তিনি বলেন, ‘এই ভাঙা ও ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আমাদের কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে। সেই জটিল সময়কে স্থিতিশীলভাবে পার করতে হলে জনগণকে সতর্ক ও সংহত থাকতে হবে, যাতে কেউ রাজনৈতিকভাবে বিভাজন সৃষ্টি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।’

তথ্যমন্ত্রী বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গ মিলিয়ে সতর্কবার্তা দিলেন—সমাজে বিভেদ ও দাঙ্গাবাজি করে পুরনো কৌশল অনুসরণ করলে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, ‘হাজার বছরের বেশি সময় ধরে এই দেশে নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেছে; এমন পরিবেশকে হললভাগ করার কোনো সুযোগ থাকা উচিত না। কিন্তু যারা ভোটবিহীনভাবে ক্ষমতা দখল করত বা রাখতে চেয়েছিল, তারা জনমানসে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, যার মধ্যে একটি বড় কৌশল ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করা।’

সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, বিরোধী দলদের সঙ্গে গঠনমূলক তর্ক-বিতর্ক তিনি ও তার দল চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তা আরও বাড়বে। তবে তিনি সতর্ক করেন, ‘সংসদে করা গঠনমূলক সমালোচনার বিষয়গুলো কেউ রাজপথে নিয়ে এসে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ করে দেবেন না—এ বিষয়গুলোতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলেম ও ওলামাদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী আবেদন জানান যে তারা সামাজিক শান্তি ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতার জায়গায় গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তিনি বলেন, ‘আগামী দুই বছর আমরা যদি শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে না পারি, তাহলে ভাঙা অর্থনীতি পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে না। তাই আপনারা যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রচার ও অনুশীলন করেন, আপনি হতে পারেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।’

সর্বশেষে স্বপন পুনরায় জনগণ ও ধর্মীয় নেতাদের প্রতি একজোট থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জনসমর্থন ও সচেতনতা অপরিহার্য।

পোস্টটি শেয়ার করুন