শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাটছাঁট সত্ত্বেও প্রয়োজন ৩৭ হাজার কোটি টাকা

নবম পে-স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে শুরু হয়ে দুপুরে শেষ হয়েছে। বৈঠকে নতুন পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করলে সরকারের অতিরিক্ত প্রয়োজন পড়ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার। তবে কিছুকিছু খাতে কাটছাঁট করে ব্যয় কমিয়ে তা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নামানোর প্রস্তাব এসেছে, জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

কমিটির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিচের দুই স্তরের সরকারি কর্মীদের বেতন ও সুবিধা বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। উপরের স্তরের কর্মকর্তাদের তুলনায় নিচু স্তরের কর্মীদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশনের হার প্রায় শতভাগের কাছাকাছি বৃদ্ধি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

কমিটির পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একেবারে নতুন পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করলে অতিরিক্ত ব্যয় ৪৩ হাজার কোটির কাছাকাছি হতো। কিন্তু বর্তমানে চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে মিলিয়ে দেয়ার ফলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে আনুমানিক ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ বাজেট পরিকল্পনা হচ্ছে।

বৈঠক শেষ হওয়ার আগে সচিবালয়ে বাজেট সংক্রান্ত দু’টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়—গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার (২১ মে)। সেখানে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা ও খরচ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। নবম পে-স্কেলের আওতায় শুধুই প্রশাসন ক্যাডার থাকবে না; এতে শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগের কর্মচারীসহ সরকারি সব খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত সোমবার (১৮ মে) জানান, আগামী অর্থবছরের শুরু, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সংকটাপন্ন বলে উল্লেখ করে বলেন, জিডিপির তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহ দুর্বল থাকায় বাজেটে নানা সীমাবদ্ধতা আছে; তাই কিছু বিষয়ের ওপর সাজানো ও কাটছাঁট করা লাগছে, তবু নতুন বেতনকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, মূল কমিশনের সুপারিশ কিছুটা সংক্ষিপ্ত করে পোস্ত-পদক্ষেপ হিসেবে মোট তিন ধাপে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করার কথা ভাবা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি যে সুপারিশ দিয়েছে, তা তিনটি অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা যাবে কি না, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন—কমিটি এমন প্রস্তাব করলেও বাজেটের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং দেশটি শক্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

পেনশনের ক্ষেত্রে কমিটি যে প্রস্তাব রেখেছে, তাতে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশন পান, তাদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বৃদ্ধি প্রায় ৭৫ শতাংশ; আর ৪০ হাজার টাকার বেশি প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বৃদ্ধি প্রায় ৫৫ শতাংশ। এছাড়া প্রবীণ পেনশনপ্রাপ্তদের চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে।

চিকিৎসা ভাতার প্রস্তাব অনুযায়ী ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা বর্তমান ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার করা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সচিব কমিটি নবম পে-স্কেলে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড রেখে চলার প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার চূড়ান্ত সুচনায় পৌঁছানো হয়েছে।

এখন এই সুপারিশগুলো মন্ত্রিসভা ও বাজেট পর্যায়ে চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে কি না, সেটাই দেখার। সরকার বাজেট সীমাবদ্ধতার মধ্যে এই পরিবর্তনগুলো কোন ধাপে এবং কবে থেকে কার্যকর করবে, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন