চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঘোষণা করেছে, স্টেট কাউন্সিলের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আগামী ২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত বেইজিং সফর করবেন। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই ঐতিহাসিক সফরের সময়সূচীর কথা জানিয়েছেন।
এটি আসে এমন সময়ে যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতারা চীনে রাষ্ট্রীয় সফর সম্পন্ন করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১২ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত বেইজিং সফর করেছিলেন। তারই চার দিনের মাথায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৯ মে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং পৌঁছান। শাহবাজের সফর এই কূটনৈতিক ক্রমবর্ধনের নতুন ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সফরের সময় দুই দেশের নেতাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা-সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, তাই এই সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
পূর্বে শাহবাজ শরিফ সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে চীনে গিয়েছিলেন এবং তখন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছিলেন। স্পষ্টতই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংযোগ বজায় রাখতে ও অর্থনৈতিক উদ্যোগে গতি আনার উদ্দেশ্যেই এই সফর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সম্প্রতি বেইজিং নীরব কূটনীতির পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ফোনালাপ ও বৈঠকের মাধ্যমে সক্রিয় কূটনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পর তিনি দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে চীনের পক্ষ থেকে সহায়তার প্রস্তাব পাওয়া গেছে—যা মধ্যপ্রাচ্যস্থিত কৌশলগত সংকটের প্রেক্ষিতে গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন এখন কেবল অর্থনীতিতে শক্তিশালী নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও তার ভূমিকা বাড়াতে চায়। পাকিস্তানকে পাশে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও অঞ্চলে নিজের প্রভাব সুবিস্তারে উন্নীত করতেই বেইজিং এই কর্মকৌশল গ্রহণ করছে।
শাহবাজ শরিফের এই সফর কবে ও কীভাবে বাস্তবায়িত হবে—সেটি দুই দেশের যৌথ বিবৃতি ও সফরের সময়সূচি প্রকাশের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।