বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিসা জটিলতায় ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা অনিশ্চিত

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি—তবু রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের ভিসা অনিশ্চয়তা লেগেই আছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন সময়ের সঙ্গে гонাতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহদি তাজ জানিয়েছেন, দলটি নির্ধারিত পরিকল্পনা মতো আগামী শনিবার স্পেন পৌঁছে সেখানে কিছু সময় কাটাবে এবং তারপর সরাসরি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় যাবে। তারা আশা করছে মেক্সিকোর ভিসা মঙ্গলবারের মধ্যে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সপ্তাহের শেষের দিকে, শুক্রবারের মধ্যে হাতে আসবে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দিকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসনে বেইজ করার কথা ভাবছিল, কিন্তু ফেডারেশনের অনুরোধেই সেটি বাতিল করে তিজুয়ানায় শিবির স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিবির বদলই মেক্সিকোর ভিসার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি করেছে এবং সেটি দলের জন্য নতুন প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বর্তমানে ইরানীয়রা তুরস্কের আনতালিয়ায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে; সেখান থেকেই তারা উত্তর আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেবে।

ইরানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলীর পর থেকে তীব্র হয়েছে, যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু ঘটনায় বাক-বিবাদ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত আলাপ-আলোচনার মধ্যে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা এপ্রিলে নতুন মোড় নেয়: ইরান ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজের কানাডায় প্রবেশভিসা বাতিল করে দেওয়া হয়—তাঁর বিরুদ্ধে অতীতের কিছু সংযুক্তির অভিযোগ থাকায়, এমন অভিযোগে সঘনন্তর উত্তর আমেরিকার কিছু দেশ ওই সংস্থাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।

এই প্রসঙ্গে মার্কো রুবিও—যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর—ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি একটি শুনানিতে উল্লেখ করেছেন, খেলোয়াড়দের বা ক্রীড়াবিদদের নিয়ে তাদের কোনো মৌলিক সমস্যা নেই; তবে প্রতিনিধিদলে এমন কাউকে রাখা যাবে না যাঁদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্ক নেই এবং যাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ও নীতিগত উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে তারা ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রতিটি সদস্যকে কড়া নজরদারিতে রাখবে, যাতে কোনো নিরাপত্তা বা কূটনৈতিক নীতিভঙ্গ না ঘটে।

মাঠের দিক থেকে ইরান ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। এরপর ২১ জুন বেলজিয়ামের সঙ্গে এবং ২৬ জুন সিয়াটলের ম্যাচে মিসরের বিরুদ্ধে তাদের পরবর্তী লড়াইগুলো অনুষ্ঠিত হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ পেশাদার ফুটবল বর্তমানে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থগিত থাকলেও খেলোয়াড়রা বিদেশে কঠোর অনুশীলন করে নিজেদের ফিটনেস বজায় রেখেছেন।

সব মিলিয়ে এখন ইরানের বিশ্বকাপের ভাগ্য মূলত নির্ভর করছে সময়মত ভিসা পাওয়া ও নিরাপদে ভেন্যুতে পৌঁছানোর ওপর।

পোস্টটি শেয়ার করুন