সরকার প্রস্তাবিত বাজেট বিলে জমি, বিল্ডিং বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার সময় স্বপ্রণোদিতভাবে অ-প্রদর্শিত অর্থ ঘোষণা করে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর পরিশোধ করলে সেই অর্থের উৎস সম্পর্কে সরকার প্রশ্ন করতে পারবে না—এমন সুযোগ দেওয়ার পথে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবটি সরাসরি ‘কালো টাকা সাদা করা’ বলেই উঠেছে জনমতে, যদিও বাজেটে এ বিষয়ে স্পষ্ট অন্য কোনো নির্দেশনা নেই। আইনগতভাবে এটি আয়কর আইন, ২০২৩-এর প্রথম তফসিলে সংশোধন আনার মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে।
আবাসন খাতের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, মৌজা রেটের তুলনায় বাজারদর অনেক বেশি হওয়ায় জমি ও ফ্ল্যাটের লেনদেনে থাকা অতিরিক্ত অর্থকে ‘কালো’ ধরা উচিত নয়। রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল বলছেন, ‘‘ব্যবসায়ীরা যে টাকা হাতে রাখে, সেটা সিস্টেমে নিয়ে আসলে সরকারও আয়কর পাবেন, ব্যাংকগুলোতে তারল্য বাড়বে এবং মেইনস্ট্রিম অর্থনীতিতে টাকা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’’ ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এ সুযোগ নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং আর্থিক প্রবাহে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অ-প্রদর্শিত কোনো অর্থই আইনগতভাবে অবৈধ বলে দেখছে এবং সময়ের সঙ্গে এনবিআরের অভিযানে এসব অর্থ জব্দ করার নজির রয়েছে—এই কথা কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা অভিযোগও করেন। একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘‘ইনকাম ট্যাক্সের লোক এসে ডেভেলপারদের গলা চেপে ধরে টাকাগুলো নিচ্ছে; যদি তারা ওই টাকার বড় অংশই সরকারি কোষাগারে জমা দেয় তাহলে দেশ অনেক এগোবে’’—এমন কঠোর ভাষাও তিনি ব্যবহার করেছেন। এগুলো ব্যবসায়ী এলাকা থেকে করা দাবি ও অভিমত হিসেবে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান ট্যাক্সটিক্যাল ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ (টিআইবি) সতর্ক করেছেন যে এই ধরনের ছাড় বা সনদ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়াবে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘যেসব খাতে এই সুবিধা দেয়া হবে, সেগুলোকে দুর্নীতিগ্রস্ত শক্তির নিয়ন্ত্রণে দেয়া হচ্ছে। নিয়মিত করদাতারা নিরুৎসাহিত হবেন এবং যে সৎভাবে উপার্জন করেন তাদের ওই খাতে অংশগ্রহণের সুযোগ কমে যাবে।’’
টিআইবি বলে, মৌজা রেটের ওজন বোঝানোই প্রকৃত সমস্যার সমাধান নয়—রেট কম থাকায় অতিরিক্ত অপ্রদর্শিত অর্থ জন্ম নেয়, এমন যুক্তি তারা প্রত্যাখ্যান করেন। সমালোচকরা মনে করান যে স্বপ্রণোদিত ঘোষণায় অনুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না থাকলে এই ধরণের ব্যবস্থা দূরগামী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংক্ষেপে, প্রস্তাবিত বিধানটি বাস্তবে থাকলে তা ব্যবসায়ী ও সরকারের জন্য স্বল্প মেয়াদে উপকারী মনে হতে পারে; একই সঙ্গে বিরোধী দিক থেকে দেখা গেলে এটি দুর্নীতি ও বৈষম্য বাড়াতে পারে—এজন্য নীতিনির্ধারকরা সতর্ক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন।