শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে ব্রহ্মসের স্মলার ও হাইপারসনিক সংস্করণ আসছে

ভারত এবং রাশিয়ার যৌথ প্রযুক্তিতে নির্মিত ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা ও পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নতুন সংস্করণ তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে। রাশিয়ার ভারতীয় দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ জানিয়েছেন, এবার ক্ষুদ্র আকারের (‘স্মলার’) এবং হাইপারসনিক প্রযুক্তির ভিত্তিতে তৈরি সংস্করণ নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে—যা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বহুমুখী আঘাত করার ক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই খবর বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে গত বুধবার যখন বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত আলিপভ এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্রহ্মস সিস্টেমের আধুনিকায়নের সম্ভাবনা অপরিসীম; স্থল, নৌ, সাবমেরিন ও বায়ু—চারিদিকে উৎক্ষেপণের সক্ষমতা যোগ করার মাধ্যমে প্রকল্পটি দীর্ঘ ও সফল পথে এগিয়েছে।

আলিপভ ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক পরীক্ষার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ভারত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক বহুমাত্রিক আঘাত ক্ষমতার একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়তে পেরেছে, যা আজ বিশ্বস্ত এবং দ্রুততর প্রিসিশন স্ট্রাইক সিস্টেমগুলোর মধ্যে গণ্য।

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আরও বলেছেন, ব্রহ্মস প্রকল্পটি ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এক আদর্শ মডেলে পরিণত হয়েছে। এটি রক্ষণশীল ‘ক্রেতা-বিক্রেতা’ সম্পর্ককে বদলে দিয়েছিল—উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ উন্নয়ন ও স্থানীয় উৎপাদনকে গুরুত্ব দিয়ে। আলিপভ মনে করেন, এই দৃষ্টিভঙ্গিই পরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগগুলোর নির্ভরযোগ্য ভিত্তি তৈরি করেছে। তাঁর দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান, টি-৯০ ট্যাংক এবং সাম্প্রতিক একে-২০৩ রাইফেল তৈরির মতো প্রকল্পগুলোকে উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে আলিপভ সুখোই-৫৭ প্ল্যাটফর্মকে ভিত্তি করে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উন্নয়ন এবং এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ দুই দেশের গভীর আস্থা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও প্রসারিত করবে।

রুশ রাষ্ট্রদূত ব্রহ্মসের আন্তর্জাতিক চাহিদার কথাও উল্লেখ করেন—এশিয়া-প্যাসিফিক, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তিনি ‘অপারেশন সিন্দূর’ উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরেন, যেখানে ব্রহ্মস তার নির্ভরযোগ্যতা, কার্যকারিতা ও লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা তুলে ধরেছে।

এই প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিবরণ ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’ সূত্রে সামনে এসেছে। নতুন সংস্করণগুলো বাস্তবে আনে কতখানি ক্ষমতা বৃদ্ধি হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ও দুই দেশের যৌথ সিদ্ধান্তগ্রহণের ওপর।

পোস্টটি শেয়ার করুন