ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় পাঁচ বছরের শিশু তাবাসসুমকে ধর্ষণ ও হত্যা করার দায়ে একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং লাশ গুমের অপরাধে পৃথক ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের বাদেডিহি গ্রামের রফিউদ্দিনের ছেলে। তিনি বাদুরগাছা গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং নিহত শিশুটির পরিবারের পাশের বাড়িতে বসবাস করতেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাবাসসুম নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরের দিন সকালে পাশের একটি স্কুলের সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় শিশুটির বাবা নজরুল ইসলাম কালীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তি নাম করে মামলা দায়ের করেন।
পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ কুষ্টিয়া থেকে প্রতিবেশী যুবক আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে সোপর্দ করে। এক তদন্তকারীর ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে গত ২৬ মে পুলিশ তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করে।
দ্রুত গতিতে পরিচালিত বিচারে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে ১৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয় এবং ঘটনার চার মাসের মধ্যে রায় ঘোষণা করা হলো। আদালত ধর্ষণ ও হত্যা সম্পর্কে দায়ী করে আবু তাহেরকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আকিদুল ইসলাম বলেন, অল্প সময়ে বিচারকাজ শেষ হয়েছে এবং আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট রয়েছে এবং দ্রুত রায় কার্যকরের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি করেছেন।