সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প: সমঝোতা ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় সমঝোতা না হলে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে প্রণালী বন্ধের যেকোনো উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ফক্স নিউজের সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিটব্যাপী এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আলাপ-আলোচনায় না আসে তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। তিনি বলেন, ‘‘প্রয়োজনে আমরা হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নেব; সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করাও বিবেচনায় আসতে পারে।’’

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে এবং এ নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সরাসরি সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলকে দায়ী করে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয়। ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং ওই ঘোষণার পরে ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সরগরমি সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে প্রণালীটির নিরাপত্তা ও তদারকির দায়িত্ব নিতে সক্ষম এবং ওই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত তেলের একটি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে এই মন্তব্যের বাস্তব অর্থ, নীতি-নির্ধারণ ও করণীয় কী—এই বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি; খবরদাতা সংস্থা সিএনএন হোয়াইট হাউসকে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

এর পাশাপাশি ট্রাম্প লেবাননে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে সতর্ক করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেছেন, লেবাননে তাদের উসকানিমূলক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, নাহলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, বহুদিনের উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তিচুক্তি আলোচনা রোববার সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে; মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আলোচনার মাঝেই ট্রাম্পের কড়া ভাষ্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন ও বিতর্ক উষ্মাগ্রস্ত করেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন