সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিম্ন আয়ের মানুষের উপর করের বোঝা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বাজেটে: সিপিডি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি খাতের আকারে ব্যাপক করের বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নতুন কর কাঠামোতে কম আয়কারীদের উপর করের বোঝা significantly বেড়ে যাচ্ছে। এই শ্রেণির করদাতাদের করের পরিমাণ সাড়ে ১২ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জন্য এক ধরনের অর্থনৈতিক বোঝা ডেকে আনছে। অন্যদিকে, ৩০ লাখ টাকার বেশি বার্ষিক আয়কারীরা অর্থাৎ উচ্চবিত্ত শ্রেণির উপর এই করের চাপ তুলনামূলকভাবে খুব কমই বাড়ছে। এই বৈষম্য অর্থনৈতিক সমতা ও ন্যায়বিচারের জন্য দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাজেটে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজস্ব ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি controlled করা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ক্ষমতাধর হিসেবে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূর করা। এজন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলো, বর্তমান অর্থনীতির সংকটগুলো মোকাবিলা করে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

রোববার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে বাংলাদেশে একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এই বাজেট পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

এছাড়াও, মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন পাবলিক পলিসি, শ্রম, শিল্প, বিনিয়োগ ও শ্রমজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

ফাহমিদা খাতুন জানান, নতুন বাজেটে আয়কর দের বোঝা আসলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষদের ওপর বেশ জোরদার হচ্ছে। তার মতে, যারা বছরে ৬ থেকে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে আয় করেন, তাদের করের পরিমাণ ১২.৫ শতাংশ থেকে ১৬.৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। বিপরীতে, ৩০ লাখের বেশি আয় করা ব্যক্তির জন্য এই বাড়তি চাপ খুব বেশিই না। এই বৈষম্য দেশের সমাজ ও অর্থনৈতিক সাম্যাবস্থার জন্য নেতিবাচক।

তার additionally, তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া নতুন কর্মসংস্থান অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। মূলত, সংশ্লিষ্ট ছয়টি মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম বা স্থবির রয়েছে। পটুয়াখালী ইপিজেড, জামদানি ভিলেজের মতো প্রকল্পগুলোও দীর্ঘদিন থেকেই পড়ে আছে, যা দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বড় ক্ষতি করে।

ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্পষ্ট জাতীয় কর্মসংস্থান পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার জরুরি। সে ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনাগুলির শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবেই থেকে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেটের আকারে লক্ষ্য নির্ধারণ আশা জাগানিয়া হলেও বাস্তবায়ন খুবই চ্যালেঞ্জিং। আন্তর্জাতিক অর্থ সুবিধা কমে গেলে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

সরকার বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছেন বলে জানানো হয়। তবে, গত অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৬৩ শতাংশ, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। খাদ্য ও জ্বালানির অবাধ সরবরাহ, মুদ্রানীতি শিথিলতা ছাড়া এই লক্ষ্যে পৌঁছানো বেশ কঠিন।

ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, নতুন সরকারের বাজেট পরিকল্পনা প্রশংসনীয় হলেও, অর্থনৈতিক সূচকগুলো খুবই আশাবাদী। বিশেষ করে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উদ্বেগজনকভাবে বেশি, যার সঠিক বাস্তবায়ন হলে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় অগ্রগতি আসবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায়, চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে বাজেট দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, এখন সরকার ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থনীতির পথ খুঁজছে। সঠিক প্রস্তুতির জন্য অন্তত ছয় মাস সময় দরকার ছিল। তবে দেরি না করে অদূর ভবিষ্যতেই এই বাজেটের কাঠামো উপস্থাপন করতে হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন