বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আ. লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে রাবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল মঙ্গলবার (২২ জুন) দুপুরে আওয়ামী লীগের alleged নৈরাজ্য, হুমকি-ধমকি ও অস্থিতিশীলতার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী মিছিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে প্রকাশ্যে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেন।

মিছিলটি দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পরিবহন চত্বরে শেষ হয়। বিক্ষোভকারীরাও দলীয় নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগকে ‘‘নিষিদ্ধ গোষ্ঠী’’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের সব ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করার হুঁশিয়ারি দেন।

বিক্ষোভে নেতারা নানা কঠোর স্লোগান দেন; তাতে কয়েকটি কড়া ভাষার অর্থবহ দাবি ও ক্ষোভ প্রকাশ পায়। শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘‘স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারে মানুষের বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, নির্যাতন ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণে সাধারণ মানুষ আর আওয়ামী লীগের রাজনীতি দেখতে চায় না।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘যারা অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং যদি ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান বা প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করেন, তাহলে গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ তা মেনে নেবে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বের আলোকে যে কোনো অগণতান্ত্রিক ও জনগণবিরোধী চেষ্টা গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিরোধ করবে।’’

সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘‘যে শাসন মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে, হত্যাকা-–গুম-–নির্যাতন করেছে, তাদের এখানে থাকতে দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষায় আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ছাত্রলীগ যাতে ক্যাম্পাসে বা দেশের কোথাও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, তার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকা জরুরি।’’

রাহী আরও বলেন, ‘‘ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে শনাক্ত করে ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। তারা (আওয়ামী লীগ) ২৩ জুন থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার পরিকল্পনা করছে—এমন আশঙ্কায় ফজরের নামাজের পর থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।’’

বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ কিছু পরিস্থিতির ছাপ দেখা যায়। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি ও নীতি-নির্দেশনা স্পষ্ট করে বলেছে যে তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকারের ও দলীয় কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন